মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুন নাহারসহ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। রবিবার বেলা ২টার দিকে শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অধ্যক্ষের সঙ্গে থাকা শিক্ষকরা হলেন কলেজের অধ্যাপক আবু আহসান কবীর, সহযোগী অধ্যাপক জাকির হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক মামুন রশীদ, শরীরচর্চাবিষয়ক শিক্ষক মোহাম্মাদ ইব্রাহিম ও গ্রন্থাগারিক শাহ মোয়াজ্জেম। তাদের মধ্যে মামুন রশীদ, মোহাম্মাদ ইব্রাহিম ও শাহ মোয়াজ্জেম শহরের তিনটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
এরই মধ্যে শিক্ষকদের ফুল দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুন্সীগঞ্জ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদ খানও তার ফেসবুক পেজে ফুলেল শুভেচ্ছার ছবি সংবলিত একটি পোস্ট দেন। পোস্টে মাসুদ খান লেখেন, ‘মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের জনাব কামরুজ্জামান নবনির্বাচিত এমপির জন্য ফুল নিয়ে বিএনপি পার্টি অফিসে ছুটে গেলেন হরগঙ্গার প্রিন্সিপালসহ শিক্ষকরা। এ সময় ফুল ও শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন তারা। রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে জনপ্রতিনিধিকে শুভেচ্ছা জানান।’
এদিকে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও কলেজের অধ্যক্ষের রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলের তোড়া দেওয়ার বিষয় নিয়ে সমালোচনা চলছে।
অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের এমপিকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া সমীচীন নয়। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমি কলেজের কিছু সমস্যা, বিশেষ করে ছাত্রদলের কিছু কর্মকাণ্ড এর আগে কলেজে সমস্যা তৈরি করেছিল, এখনও তারা আবার সমস্যা তৈরি করছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, সংসদ সদস্য আমাকে দলীয় কার্যালয়ে যেতে বলেছিলেন, তাই গিয়েছিলাম। প্রথম দিন, তাই ফুল নিয়ে গিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিব হাসান রিকন লেখেন, ‘শিক্ষার অবকাঠামো ও মান উন্নয়নে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করা যৌক্তিক ও ইতিবাচক। কিন্তু সেটা কলেজ প্রাঙ্গণে হলে ঠিক হতো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সনাকের সাবেক এক জেলা কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি মোতাবেক এটা তারা করতে পারেন না। বিষয়টি শোভনীয় নয়। আমরা আগেও অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে দেখেছি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে ফুল নিয়ে তাদের কাছে ছুটে যেতে। এটি বন্ধ করতে হবে।’
মুন্সীগঞ্জ জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা দরকার। তারপরও কেউ দলীয় কার্যালয়ে যায় সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আইনি দিক থেকে কিছু করার নেই। রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে যাওয়া ভালো দেখায় না।’
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে সিপিবি মনোনীত প্রার্থী শ ম কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোন সরকারি কর্মকর্তা যিনি সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, সে অবস্থায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এভাবে অভিনন্দনের নামে তোষামোদ করতে পারেন না। আমার জানামতে, এটা চাকরিবিধির লঙ্ঘন। এই ধরনের সংস্কৃতি পরিহার করা উচিত। পাশাপাশি তারা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন কতটুকু সঠিকভাবে পালন করেছেন, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন আছে।’
প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. কামরুজ্জামান ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পান ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট। এই আসনে জয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৭৫৫টি।