Image description
মার্চেন্ট পাওয়ারের হুইলিং চার্জ ২.৪৮ টাকার প্রস্তাব

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো বেসরকারি কোম্পানি দেশের যে কোনো জায়গায় সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান সরকারি বিতরণ বা সঞ্চালন লাইন দিয়ে অন্য এলাকায় তার কারখানা বা অন্য কোনো গ্রাহককে সেই বিদ্যুৎ দিতে পারবে। কিন্তু ওই বিতরণ বা সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য কত হুইলিং চার্জ দিতে হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে এজন্য বিতরণ বা সঞ্চালন কোম্পানি প্রতি ইউনিটের জন্য ২ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগে। তবে হুইলিং চার্জ অস্বাভাবিক হলে তা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ ভবনে এ ব্যাপারে একটি বৈঠকও হয়। বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আলী রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি-পিজিসিবি, আরইবি, ডেসকো, ডিপিডিসি, পিডিবিসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সেখানে কোনো মার্চেন্ট পাওয়ার (বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) এক এলাকায় সৌর প্যানেল বসিয়ে অন্য এলাকায় সরকারি বিতরণ লাইন দিয়ে তার কারখানা বা গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে পিজিসিবি ৩১ পয়সা চার্জ নেয় পিডিবি বা অন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে। কিন্তু মার্চেন্ট পাওয়ারের গ্রাহকদের জন্য এ চার্জ (ওপেন এক্সসেস ট্যারিফ) কয়েকগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আরইবির বিতরণ লাইন ব্যবহার করে কেউ ওই সংযোগ দিলে প্রতি ইউনিটের জন্য ২ টাকা ৪৮ পয়সা চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিপিডিসি ২ টাকার বেশি এবং পিডিবি এবং ডেসকোও ২ টাকার বেশি প্রতি ইউনিট চার্জ প্রস্তাব করেছে মার্চেন্ট পাওয়ারের জন্য। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, মূলত ১৩২ কেভি, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভিসহ চার ধরনের বিতরণ এবং সঞ্চালন লাইন ব্যবহারকারীদের জন্য সরকারি কোম্পানিগুলো চার ধরনের হুইলিং চার্জ আদায়ের প্রস্তাব করেছে। তবে সাধারণত প্রতি ইউনিটের জন্য ৩১ পয়সা হলে সেখানে কেন ২ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত হুইলিং চার্জের প্রস্তাব দেওয়া হলো। এই প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বলে দিয়েছে আগামী অর্থবছর থেকে কোনো সরকারি কোম্পানিকে ভর্তুকি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ এখন থেকে কোনো কোম্পানি লোকসান করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। এখন মার্চেন্ট পাওয়ারকে উৎসাহিত করতে হলে সব সরকারি কোম্পানি অসংখ্য শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহক হারাতে পারে। কারণ, বিতরণ কোম্পানিগুলো আবাসিকের চেয়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুতের জন্য বেশি দাম পেয়ে থাকে। তাই তারা মার্চেন্ট পাওয়ারের কাছ থেকে বেশি করে চার্জ আদায় করে ওই আর্থিক লোকসান কমাতে চাইছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এখনো এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনার জন্য আরও একটি বৈঠক করে বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসিতে পাঠানো হবে।

এদিকে মার্চেন্ট পাওয়ারে বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। মোবাইল অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অফিসার শাহেদ আলম যুগান্তরকে বলেছেন, শুধু মোবাইল অপারেটররা তাদের সব টাওয়ারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে চাইছে। এজন্য ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৩০ কোটি ডলার বা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মোবাইল অপারেটররা চাচ্ছে এক এলাকায় সৌর প্যানেল বসিয়ে সরকারি গ্রিড বা বিতরণ লাইন দিয়ে ওই বিদ্যুৎ অন্য এলাকার মোবাইল টাওয়ার বা অন্য কাজে ব্যবহার করতে। এজন্য সরকারি গ্রিড লাইন বা বিতরণ লাইন ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এখন মার্চেন্ট পাওয়ারদের হুইলিং চার্জ যদি অস্বাভাবিক হারে চাওয়া হয়, তাহলে সেটি বিনিয়োগকারীদের কাছে একেবারে নেতিবাচক সংকেত যাবে। কারণ, এ খাতে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংক বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।