গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য আহত এবং পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ (৪৫) কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক।
আহত চার পুলিশ সদস্য হলেন— গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই সেলিম রেজা, এসআই মীর কায়েস, এসআই মমিনুল ও কনস্টেবল হোসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চেয়ারম্যান গোলাপকে গ্রেফতারের উদ্দেশে পুলিশ তার বাড়িতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন এবং পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দেয়। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘হামলাকারীরা চার পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে এবং পুলিশের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সবাই পালিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান গোলাপসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নুরুন্নবী প্রধানের ছেলে তাহারাত তানভীর প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।