Image description
বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা । নির্বাচনি অফিস ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, মহাসড়ক অবরোধ । ফরিদগঞ্জে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ।

নির্বাচনি প্রচারে উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ছড়িয়ে পড়ছে। রোববার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, ময়মনসিংহের ভালুকা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-হামলায় ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় নির্বাচনি অফিস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দুটি স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় জেলা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রার্থীরা। এছাড়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

রংপুর ও লালমনিরহাট : হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী এলাকায় রোববার বিকালে আজিম উদ্দিনের বাড়িতে জামায়াতের কয়েকজন নারীকর্মী গণসংযোগে যান। এ সময় তাদের পরিচয় জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে খবর পেয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ভাঙচুর করা হয় তিনটি মোটরসাইকেল। এ সময় বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাজল, ক্ষতিবর রহমান, নাজমুল সাকিব, সোহেল রানা, মানিক, শরিফুল, নাজিরসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা কমিটির জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম বলেন, যুবদল ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্তা করে। তাদের হিজাব খুলে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

যুবদলের হাতীবান্ধা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম বলেন, আমাদের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগের সময় শিবিরের কয়েকজন বাধা দেয়। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে তারা আহত করে। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে কোনো মূল্যে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : বিকালে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কানার মার্কেট এলাকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুপক্ষের ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। এর জের ধরে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন উপজেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে ধানের শীষের লোকজন এসে পৌর বিএনপির সদস্য সচিবের ব্যক্তিগত অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সিডস্টোর, জামিরদিয়া ও ভালুকা পৌরসভার কলেজ এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম জানান, প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার প্রচারকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু জানান, মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে ভালুকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।

যশোর : দুটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। দুই ঘটনায় জেলা ও সহকারী র্রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রার্থীরা। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছায় যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। রোববার দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে হামলা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যশোর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদেরের ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের যুগীরহুদা গ্রামে জামায়াতের নারীকর্মীদের নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষের কর্মীরা। এতে উভয় দলের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন-খাদিমপুর ইউনিয়নের যুগীরহুদা গ্রামের শামীম হোসেনের স্ত্রী রিক্তা খাতুন, মানিক মিয়ার স্ত্রী মুক্তি খাতুন, মতিয়ারের ছেলে রাব্বি ও হাসিবুল হকের ছেলে মানিক মিয়া।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। রোববার বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওর বাজারে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।