ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে এবার শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন হচ্ছে না। বিভাগের ২৩ আসনের বেশির ভাগেই মূল লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। কিছু আসনে বিএনপির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও লড়াই জমবে। ভোটার, পর্যবেক্ষক, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের ৯টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আলোচনায় আছেন বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। মূল ভোটের লড়াই তাঁদের মধ্যে হতে পারে। ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে লড়াই হবে ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসেইন এবং উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আহম্মদ তায়েবুর রহমান হিরনের মধ্যে। ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে লড়াই হবে চতুর্মুখী। ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে জোরালো আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁরই আপন চাচি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমান। এই দুজনের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হতে পারে। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে লড়বেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম।
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল বলে খ্যাত এই আসনের বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী দুজনেই হেভিওয়েট প্রার্থী বলে বিবেচিত। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াত প্রার্থীর। এখানে বিএনপি প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ও জামায়াত প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল। এদিকে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) ও ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থীরা কৌশলে এগিয়ে আছেন। নেত্রকোনায় পাঁচটি আসনের তিনটিতে জামায়াত ও বিএনপির তুমূল ভোটযুদ্ধ হতে পারে। জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসন ঘিরে এবার নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। পাঁচটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।