আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে এক কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে দুই হাজার ৫৬১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে চরাঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা ও কোনো কোনো প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানায়, এসব কেন্দ্রে অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি। এ ছাড়া বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থাকছে ভিজিলেন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
রংপুর ডিআইজি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের আট জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৩০টি পৌরসভা ও ৫৩৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র চার হাজার ৫৪৬টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৮২৭টিকে। রংপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন জানান, আমার আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো ধরনের ঝামেলা না হয় সে ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুধকুমার নদের ওপারের চরে অনেক ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেই কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, সেনা সদস্যসহ নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।
কুড়িগ্রামের রৌমারী চরাঞ্চলের ভোটার সাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রে যেতে ভয় লাগত। প্রভাবশালীরা থাকলে সাধারণ মানুষ ঠিকমতো ভোট দিতে পারে না। এবার যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারি, সেটাই চাই।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যার লাইভ মনিটরিং করা হবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে।