রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টির বেশি আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। ভোটার ও পর্যবেক্ষকরা হিসাব-নিকাশ শেষে এমনই আভাস দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন কমপক্ষে পাঁচটি আসনে।
১১টি আসনে জয় নির্ভর করবে ভাসমান ভোটারদের ওপর। এখানে ভাসমান ভোটারদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। কোথাও আদিবাসী ভোটাররাও নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের আটটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এসব আসনে দলীয় প্রার্থীরা প্রচ্ছন্ন চাপের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী-৫, নাটোর-১, নাটোর-৩, নওগাঁ-১, নওগাঁ-৩, নওগাঁ-৬, পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর লড়াই অপেক্ষাকৃত কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র মতে, রাজশাহী-২, রাজশাহী-৩ ও রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদার। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের মঞ্জুর রহমান ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিমের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদের সঙ্গে জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুলের লড়াই জমবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির শাহাজান মিঞার বিপরীতে জামায়াতের কেরামত আলীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
নাটোরের চারটি আসনের দুটিতে বিএনপির সাবেক নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ফারজানা শারমীনের পাশাপাশি রয়েছেন বিদ্রোহী তাইফুল ইসলাম টিপু ও জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বিদ্রোহী দাউদার মাহমুদ ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জার্জিস কাদিরের লড়াই জমবে। নওগাঁর ছয়টি আসনের তিনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমানের বিপরীতে বিদ্রোহী ছালেক চৌধুরী ও জামায়াতের মাহবুবুল আলম রয়েছেন। নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির ফজলে হুদার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী।
নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলামের সঙ্গে লড়বেন বিদ্রোহী আলমগীর কবির। পাবনা-৩ আসনে বিএনপির হাসান জাবিদ তুহিন, বিদ্রোহী এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও জামায়াতের মোহাম্মদ আলী আছগারের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। পাবনা-৪ আসনে বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে মূল লড়াই হবে জামায়াতের আবু তালেব মণ্ডলের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জয়পুরহাটের দুই আসনেই বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়ার বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। বগুড়ার সাতটি আসনের কমপক্ষে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তবে বগুড়া-১, ২ ও ৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই জমতে পারে।