ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অস্ত্রধারী চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় কমপক্ষে ১২টি চরমপন্থী সংগঠন তৎপর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, এসব সংগঠনের সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট আদায়ে চাপ সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই চরমপন্থী সংগঠনগুলো আবারও সক্রিয় হতে শুরু করে। কেউ কেউ কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে কিছু প্রার্থীও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এসব চরমপন্থীদের ব্যবহার করছে।
বিশেষ করে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (জনযুদ্ধ), শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, গণমুক্তি ফৌজ, গণবাহিনী এবং সর্বহারা পার্টির বিভিন্ন গ্রুপের নাম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে সব সংগঠনের ক্যাডারদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণও পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
স্থানীয়রা জানায়, নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগেই খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়।
গত ২১ জানুয়ারি খুলনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে চরমপন্থীদের ব্যবহারের আশঙ্কার কথা জানান। এক প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী মহলের সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের আনাগোনা এবং চরমপন্থীদের সম্ভাব্য অপতৎপরতার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের সীমিত সাফল্যের সমালোচনা করে বলেন, গত এক বছরে অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ড মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক প্রতিবেদনে খুলনা জেলার ছয়টি আসনের প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রার্থীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গানম্যান দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নগরীতে গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য গোয়েন্দা ওয়াচার পোষাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি আসনে ভোটগ্রহণে পাঁচ হাজার ৫১টি কেন্দ্র ও ২৭ হাজার ৯৫৮টি বুথ নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৮০১টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই হাজার ২৫০টি সাধারণ কেন্দ্র। ওই সব কেন্দ্রে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।