Image description

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িততের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

মিছিলটি শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হবে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় প্লাটফর্মটি।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘোষণা সংক্রান্ত এক বার্তায় বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার রূপকার শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে মুক্তিকামী জনতার বিক্ষোভ মিছিল আগামী কাল শুক্রবার (বাদ জুমা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদ থেকে শুরু হবে।

এদিকে, ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য জানান।

এর আগে মামলাটির তদন্তে ছিল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে আজ নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার নারাজির আবেদন নিয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত। এরপর বিকালে মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়।

নারাজির আবেদন দাখিলের শুনানিতে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, এই চার্জশিট তদন্ত কর্মকর্তা কেবলমাত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল এ জন্য দিয়েছেন। এখানে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে হত্যাকারী শুটারদের কী সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনও সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যেন কেউ আর হাদির মতো ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কথা বলা হয়েছে। এটা হাস্যকর, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য এ চার্জশিটের ওপর আমরা নারাজি দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এখানে শুধু ফয়সালকে দেখানো হয়েছে। তার চেক জব্দ করেছে এটা হাস্যকর ব্যাপার। এটা কী ধরনের তদন্ত? প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর কীভাবে সেফ এক্সিট পায়? কীভাবে হত্যাকারীর সঙ্গে পরিকল্পনাকারী পালাতে সাহায্য করলো তাদের কথা বলা হয়নি চার্জশিটে। শরীফ ওসমান হাদী বারবার বলতেন ন্যায়বিচারের কথা। তাকে যদি কেউ মেরে ফেলে, সেই ন্যায়বিচারটাও চাইতেন। এ জন্য আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ নারাজি দিয়েছি। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

গত ৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ। এছাড়াও রয়েছে– ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা পলাতক আছেন।

বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল। ‎তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।‎

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।