Image description

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হলো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দল দু’টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ নিয়ে যায় ইসিতে। দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে বিকালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি দল বৈঠক করে সিইসি’র সঙ্গে।

বিএনপি’র প্রতিনিধিদল সিইসি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানায়, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের কাছে যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন। সঠিকভাবে বিবেচনা করে এগুলো প্রণয়ন করা হয়নি। যারা এই পোস্টাল ব্যালট প্রণয়নের কাজে ছিলেন, প্রেরণের কাজে ছিলেন বা এগুলোর বিষয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এখন যেসব পোস্টাল ব্যালট আপনারা দেখছেন, বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও আকারে আসছে, একেকটা বাসায় ২০০ থেকে ৩০০ করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে, যেটা ২২ তারিখে হওয়ার কথা এবং কোথাও কোথাও বলছে, একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন গ্রহণ করছে। এভাবে অনেক কিছু অনিয়ম হয়েছে।

প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়ম প্রথম করা হচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারতো। তবে যে ভুল-ভ্রান্তিটা হচ্ছে, এখানে আমরা ভিকটিম হচ্ছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে বলে আমাদের ধারণা এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে। আসলে ধারণাও না, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলছি, এ বিষয়ে আপনাদের (ইসি) পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভোটার স্লিপ-সংক্রান্ত আচরণবিধি নিয়েও উদ্বেগ জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও ভোটার নম্বর থাকা প্রয়োজন। অথচ বর্তমান আচরণবিধিতে দলীয় নাম, প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইলে আচরণবিধি সংশোধন করতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তোলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সফর স্থগিত করেছেন। অথচ এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু ইসি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অনেক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পাশাপাশি দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ব্যালটেই প্রার্থীদের নাম-প্রতীকসহ ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছে বিএনপি। এই প্রস্তাব যৌক্তিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দিনের শেষভাগে ইসিতে একাধিক অভিযোগ নিয়ে আসে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানায়, নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই ভোটের মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। একদিকে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্যদিকে নিরপরাধ প্রার্থীদের হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছে দলটি।

জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া হামিদুর আযাদ জানান, যারা প্রকাশ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অথচ যারা বিধি মানছেন, তাদের ওপর জরিমানার নোটিশ ও নানা হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে জমা দেয়া অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় জমলেও কমিশন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সেইসঙ্গে বড় দলগুলোর প্রধানদের প্রটোকল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না। ?এ সময় হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ২২শে জানুয়ারির আগে প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নির্বাচনী প্রচার হিসেবে গণ্য করে ম্যাজিস্ট্রেটরা হয়রানি করছেন।

বিদেশে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে জামায়াতকে জড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেন আযাদ। তিনি বলেন, বাহরাইন বা বিদেশে জামায়াতের কোনো শাখা নেই। যেখানে কমিটিই নেই, সেখানে আমাদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বৈঠকে জামায়াত নেতারা পক্ষপাতদুষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।