Image description

জামায়াত চরমোনাই সাহেবের দলকে জোটে নেওয়ার জন্য এত মরিয়া কেন? এই বিষয়টা বুঝতে হলে জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনটা বুঝতে হবে। জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন দেখলে বুঝবেন, তারা শিক্ষিত ও কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন ম্যাসেজিং দিচ্ছে।

শিক্ষিতদেরকে দেখাচ্ছে, তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চায়, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চায়, সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে চায়, জুলাই সনদের সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে রিফর্ম করতে চায় ইত্যাদি। এখানে তারা ইসলামের কোন আলাপ সামনে আনতেছে না। এই ডেমোগ্রাফিতে জামায়াত এবং এনসিপি বেশ ভাল অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। সার্ভেতে সেটাই দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতের জন্য আসল থ্রেট হচ্ছে কম শিক্ষিত, অশিক্ষিত ও গ্রামের মানুষজন। এই জনগোষ্ঠীর মাঝে বিএনপি বেশ জনপ্রিয়। সার্ভেতেও এটা উঠে এসেছে। জামায়াত এইসব মানুষদের মাঝে দুর্নীতি, সংস্কার ইত্যাদি বিষয় নিয়েও ক্যাম্পেইন করছে। কিন্তু এই ডেমোগ্রাফির জন্য এগুলোই এনাফ না। এই ডেমোগ্রাফির জন্য আরেকটা খুবই ইফেক্টিভ বিষয় হচ্ছে 'ইসলামের ঐক্যের কার্ড'।

জামায়াত যখন এই জনগোষ্ঠীর কাছে দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে যাচ্ছে, তারা দেখাচ্ছে যে এই প্রথমবারের মত ইসলামী দলগুলো একজোট হয়েছে। আমাদেরকে ভোট দিন। এই ম্যাসেজিংটা এই ডেমোগ্রাফির জন্য খুবই ইফেক্টিভ। তারা রীতিমত লুফে নিয়েছে। তারা মনে করছে সব ইসলামী দল যেহেতু একজোট হয়েছে, এবারের ভোটটা তারা ইসলামের পক্ষেই দিবে।

ন্যারেটিভের জরিপে জামায়াতের পক্ষে যে ৩৩.৬% ভোটার দেখতে পাচ্ছেন, তার পিছনে এই ইসলাম কার্ডের একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। একটা মানুষের আপনার দলের পক্ষে ভোটার হয়ে উঠা একটা কমপ্লেক্স ডিসিশন প্রসেসের ভিতর দিয়ে হয়। যারা জামায়াতকে সমর্থন করছে তারা জামায়াতের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান, সততার কারণে খুশি। কিন্তু এগুলোই এনাফ না। তাদের ডিসিশন মেকিংয়ে ইসলামী দলগুলোর "ঐক্য" একটা বড় ক্যাটালিস্টের ভূমিকা পালন করেছে।

এই কারণেই জামায়াত চরমোনাইয়ের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে চায়। তারা কম শিক্ষিত, অশিক্ষিত ও গ্রামের মানুষজনদের কাছে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের কার্ডটা খেলতে চায়।
খেয়াল করবেন, জামায়াত তাদের জোটের নাম দিয়েছে "ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ"। এটা তাদের জোটের মূল থিম। এইটার একটা সাবথিম হচ্ছে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য। তারা বিভিন্ন লেয়ারের ঐক্যকে সেল করতে চাইছে। পুরো স্ট্রাটেজি একই সূত্রে গাঁথা।

এখন প্রশ্ন আসে, জামায়াত মাত্র ১৭৯টা আসন নিজেদের জন্য রাখল। তারা সরকার গঠন করবে কিভাবে?
জামায়াতের কাছে খুবই কম্প্রিহেন্সিভ আসন ভিত্তিক জরিপ আছে। এরকম কোয়ালিটির জরিপ তাদের জোটের শরিকদের কাছেও নাই।

শরিকদের জন্য কোন আসন ছাড়বে, কোন আসন ছাড়বে না সেটা তারা ডাটার ওপরে বেইজ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অনেক আসন আছে, যেমন বরিশাল, ময়মনসিংহ বিভাগের আসন, যেগুলোতে জামায়াতের জেতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এগুলো শরীকদের জন্য ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে খুশি রেখেছে। জামায়াতের দরকার শরীকদের সেই সব ভোট যেটা তাদের শক্তিশালী এবং কম্পিটিটিভ আসনগুলোতে দরকার।
এটা সত্য যে, জামায়াত কিছু জেতা নিশ্চিত কিংবা কম্পিটিটিভ আসন শরীকদের ছেড়ে দিয়েছে। তারা কনফিডেন্ট যে শরীকরা সেই সব আসনের অনেকগুলো জিতে আসতে পারবে। তবে জামায়াত বেশিরভাগ শক্তিশালী আসন নিজেদের জন্য রেখে দিয়েছে।

আমার ধারণা, জামায়াত একাই ১৫০+ আসনে জেতার চিন্তা করছে না। তাদের টার্গেট ১৩০ থেকে ১৪০। বাকিটা জোটের শরীকরা ব্যাকআপ দিবে। এখানে একটা রিস্ক আছে, যদি সরকার গঠনের সময় জোটের শরীকরা পল্টি মারে। আমার ধারণা জামায়াত ইজ উইলিং টু টেইক দিস রিস্ক।

জামায়াত যখন বলেছে তারা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চায়, তারা জেনুয়িনলি মীন করছে। নিজেরা ১৫০+ আসন জিতে সরকার গঠন করে তারপরে দান দক্ষিণা করে একটা জাতীয় সরকার গঠন করার চেয়ে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে জাতীয় সরকার গঠন করাকেও তারা খারাপ কিছু মনে করছে না।
আপনারা কি ভাবছেন?

- আহমাদ মুসাফফা