Image description

ইসলামী আন্দোলন ছাড়াই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের ১০টি দলের প্রার্থীর সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলের নেতারা উপস্থিত থাকলেও ৮টি দলের ২৫৩টি আসন ঘোষণা করা হয়। খেলাফত আন্দোলন ও জাগপা’র আসন পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। জোটের এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে ১১ দলীয় জোট উল্লেখ করা হলেও ইসলামী আন্দোলন এতে অংশ নেয়নি।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলীয় অবস্থান জানানো হবে। সূত্র জানায়, শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন এই জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাটকীয় কিছু না হলে আজ এই সিদ্ধান্তই জানিয়ে দেয়া হবে। দলটির সূত্র জানায়, আপাতত এককভাবে নির্বাচন করবে। তবে আলাদা একটি জোট করারও চেষ্টা আছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আসন ঘোষণা করেন। ঘোষিত আসনে দলগুলোর একক প্রার্থী থাকবে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭, নেজামে ইসলাম পার্টি ২, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে লড়বে। সংবাদ সম্মেলনে জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তাদের আসন ঘোষণা করা হয়নি। 

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সহ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপা’র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান হামিদীসহ ১০ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
আসন ঘোষণা করে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আজকের এই ঐক্য জাতীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে। আমরা যারা ওয়ান বক্স পলিসি হিসেবে জোটে আছি, আমাদের একজন করে প্রার্থী প্রতিটি আসনে থাকবে। 

এলডিপি’র সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র শাসন দেখেছেন। এখন আপনারা ন্যায়, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন দেখেন একবার। দিল্লির দাসত্ব থেকে আমরা মুক্ত হতে চাই। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। কারও তাঁবেদারি করবেন না। বাংলাদেশের তাঁবেদারি করবেন। সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা একত্রিত হয়েছি। নির্বাচনী সমঝোতা ও এটার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি  যেমন নির্বাচনী সমঝোতা সেই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের বাংলাদেশ গড়তে সংস্কার ও আজাদির পক্ষে আমরা একত্রিত হয়েছি। আজকের ঘোষণার পর আর আমাদের প্রার্থী থাকবে না। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। ১১ দল মিলে নির্বাচনকে ফেস করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি। প্রতিটি আসনে ওয়ান বক্স পলিসির মাধ্যমে যাকে যে আসন দেয়া হবে  তার পক্ষে সবাই কাজ করবে। 

উল্লেখ্য, ওয়ান বক্স পলিসিতে ভোট করতে চরমোনাই’র পীরের ইসলামী আন্দোলন ইসলামী দলগুলোকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেয়। পরে জামায়াতসহ ৮ দল জোটভুক্ত হয়। পরের ধাপে এনসিপি ও এলডিপি এবং এবি পার্টি যুক্ত হলে এটি ১১ দলের জোট হয়।