Image description

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ভোট শুরুর চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নভেম্বরে হতে পারে তফসিল। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন-ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরীক্ষার ফাঁকে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপির ভোটের জন্য সম্ভাব্য সময় ছিল- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারের তরফে পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করার পরামর্শ আসে। এমন পরিস্থিতিতে ইসির নির্বাচনি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই দাবি করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে ভোটের সম্ভাব্য সময় পেছাচ্ছে।

তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলো রয়েছে, এখানে আর ভোটের সুযোগ দেখছি না আমরা। সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরে হয়। আশা করি, পাবলিক পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির দিকে ইনশা আল্লাহ ভোট করতে পারব। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারিতে ভোট শুরু করে সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট শেষ করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোজা, এসএসসি, পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা সব দিক বিবেচনা করে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।  

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সময়ের কথা বলেছি, কোনো কিছু চূড়ান্ত নয়। এটা একটা টাইমলাইন, আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি; স্পেসিফিক ডেট হবে তফসিল ঘোষণার পর।’ সরকারের চাপে ইউপি ভোট নিয়ে ইসি পরিকল্পনা থেকে পিছিয়েছে কি না জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেকে অনেক কথা বলবে। মোটেই না। 

বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া যাতে বিঘ্ন না হয় সেটা বিবেচনা করে আমাদের পরিকল্পনা একটু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন, তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে ইসির ঘোষিত সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে।