Image description

গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির চাপ আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে সৌরবিদ্যুৎ। দেশের কারখানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও হাটবাজারের ছাদে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সৌর প্যানেল। ইতোমধ্যে ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এবার অব্যবহৃত সরকারি ছাদ কাজে লাগিয়ে আরও প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-বাদ যাচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনাই।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর গুলশানের বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে, আর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, শিল্পকারখানায়ও সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটছে দ্রুত। আইইইএফএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াট। ছোটবড় স্থাপনা মিলিয়ে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। আকিজ, প্রাণ-আরএফএল, আবুল খায়ের, ডিবিএল, বিএসআরএম, কাজী ফার্মসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলারে গেছে। গ্যাসসংকটে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সৌরবিদ্যুৎ তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ জোগাচ্ছে। গ্রাহকের বাড়ির ছাদও এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে।

ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে সরকার। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন। সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি গত ৫-৭ বছরে ১৫০টি কারখানায় ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার রুফটপ স্থাপন করেছে। এ চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিজেল জেনারেটরে শিল্পকারখানায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় বিদ্যুতে যে উৎপাদন খরচ হয় তার থেকে রুফটপ সোলারে খরচ অনেক কম।

এদিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মানসম্মত সরঞ্জাম আমদানিতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের প্যানেল ঠেকানোর পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। তবে জ্বালানি আমদানির চাপ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।