দেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি শুরুর পর তিন বছর পার হলেও সামাজিক নিরাপত্তার এ স্কিম নিয়ে কর্মজীবী মানুষের আগ্রহ এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। মাসে ৫০০ জনেরও কম কর্মজীবী মানুষ এ স্কিমে যুক্ত হচ্ছেন। সর্বসাকুল্যে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা পৌনে চার লাখ। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বাদ দিলেও বেসরকারি খাতে কর্মজীবী রয়েছেন সাড়ে ৬ কোটির বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রতি বেসরকারি কর্মজীবীদের আগ্রহ বাড়াতে ইসলামী ভার্সন চালু করছে সরকার।
এছাড়া নমিনির পেনশন সুবিধার বয়স ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা, গত অর্থবছরের জন্য পেনশনারদের ১১.৬৮-১১.৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়া ও পেনশনের বাইরে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর বাইরে স্কিমটিতে ‘এক্সিট প্ল্যান’ যোগ করতে চাইছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এ প্ল্যান বা পরিকল্পনার অধীনে পাঁচ বছর চাঁদা দিয়ে কেউ অক্ষম হলে কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেনশন স্কিমের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো—মাঝপথে মানুষ যদি পেনশনের চাঁদা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েন অথবা নগদ টাকার প্রয়োজন হলে জমা করা টাকা তুলতে না পারা। টাকা তোলার সুযোগ থাকলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। এতে সরকার ২০৩০ সালের যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা পূরণ করাও সম্ভব হবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের এই পরিকল্পনা আরও যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব পেশের নির্দেশ দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
এক্ষেত্রে সরাসরি টাকা উত্তোলনের সুযোগ না দিয়ে পেনশন স্কিমকে বীমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা যায় কি না তা সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বলে জানা যায়। একইসঙ্গে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ করার বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই দুই সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি অ্যাকচ্যুয়ারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে পেনশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে শুধু ‘এক্সিট প্ল্যান’ নয়, জাতীয় পেনশন স্কিমকে আরও সহজ, নমনীয় ও সাবলীল করতে স্কিমগুলোর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে (ইউডিসি) প্রদেয় কমিশন ১০ টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা এবং পেনশনের বিপরীতে ঋণ কার্যক্রম ফের চালু করাসহ আরও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, পেনশন স্কিম নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সেই বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বিএসইসির চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিতি ছিলেন।
জানতে চাইলে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১.৬৮-১১.৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়া; সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানির কর্মীরা সরকারের প্রচলিত পেনশন সুবিধা পান না, তাদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা; সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালু; পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির সুবিধা ৫ বছর বাড়িয়ে ৮০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাঁচ বছর পর অংশগ্রহণকারী তার জমা করা পুরো অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন (এক্সিট প্লান)—এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবীমার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। মডেলগুলো দেখে এবং আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—কোনটা ব্যবহার করা হবে। আমাদের ফান্ড আরেকটু বেশি হলে আমরা কনটিজেন্সি রিজার্ভ ফান্ডের দিকে যাব। এ ছাড়া ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে। অন্যান্য দেশের অবসর ও পেনশন ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শরিয়াহভিত্তিক স্কিম নিয়ে এডিবি ও লোকাল কনসালট্যান্ট কাজ করছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করে এটি চালু করা হবে। এজন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম দিয়ে অডিট করানো হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়।
তবে পেনশন স্কিম জনপ্রিয় না হওয়ার পেছনে এক্সিট পয়েন্ট ছাড়াও পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়া, দুর্মূল্যের বাজারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সঞ্চয় করার মতো অর্থ না থাকা, প্রয়োজনীয় প্রচারের অভাবে স্কিমের প্রতি আস্থার সংকট, স্কিমের চাঁদায় মালিক পক্ষের অংশগ্রহণ না থাকাসহ আরও অনেক সমস্যা রয়েছে বলে মনে করছেন বেসরকারি খাত বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যথাযথ প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণের অভাবে চাঁদা ও পেনশন সুবিধার কাঠামোতে দুর্বলতাও এ স্কিমের জনপ্রিয় না হওয়ার একটি বড় কারণ।
অবসর জীবন কিংবা বার্ধক্যে সর্বস্তরের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে ঘটা করে চালু করা হয়েছিল সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা। শুরুর দিকে এ কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর না পেরোতেই সেই আগ্রহে ভাটা পড়েছে। নতুন নিবন্ধনের গতি এখন এতটাই কম যে, গত প্রায় এক বছরে চারটি স্কিম মিলিয়ে নতুন গ্রাহক বেড়েছে মাত্র চার হাজার।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিম প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা মিলিয়ে গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন বছরে মোট নিবন্ধনকারী ৩ লাখ ৭৯ হাজারের কিছু বেশি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নিবন্ধিত এ গ্রাহকের মধ্যেও ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছেন না। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের মধ্যে কমপক্ষে দেড় লাখের বেশি গ্রাহক চাঁদা দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন অথবা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
পেনশন স্কিম নীতি অনুসারে, বর্তমানে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ চাইছে, এ বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে ৫৫ বছর করতে। যদিও বর্তমানে ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন চাঁদা দিয়ে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
নিয়ম অনুসারে, চাঁদাদাতা ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করবেন। পেনশন পাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই বা পেনশন ভোগরত অবস্থায় পেনশনার মারা গেলে নিয়ম অনুসারে তার নমিনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাকি মেয়াদের জন্য সমপরিমাণ মাসিক পেনশন পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষ চাইছে, নমিনি যাতে আজীবন পেনশন পায়, সে ব্যবস্থা চালু করতে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হওয়ার আগে পেনশন স্কিম বাতিল করে জমাকৃত টাকা এককালীন উত্তোলন করার সুযোগ নেই। তবে এ নিয়ম পরিবর্তন করে পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর গ্রাহক যদি আর্থিকভাবে বা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন তবে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় জমানো টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা রাখতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেটা মুনাফাসহ না কি মূল টাকা, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। বর্তমানে গ্রাহক চাঁদা দেওয়ার ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে জমাকৃত টাকা মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া জমাকৃত টাকার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ঋণ হিসেবে তোলা যাবে। যদিও ঋণ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ চাইছে আবার ঋণ ব্যবস্থা চালু করতে। এটি নিয়েও আগামী পর্ষদ বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর বাইরে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘ইসলামিক ভার্সন’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এটা করা যায় কি না বা কীভাবে করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৮০ জন। অর্থাৎ প্রায় এক বছরে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন মাত্র চার হাজার মানুষ। এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জুন নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১২। সে হিসাবে ওই বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আড়াই মাসে প্রায় ২ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর নিবন্ধনের গতি আরও ধীর হয়ে পড়ে। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা এ ব্যবস্থায় এখনো চার লাখ মানুষকেও যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সর্বজনীন এ পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যার সঙ্গে সরকারি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার পেনশনার যোগ করলে দেশে মোট পেনশনারের সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে ১৮ লাখেরও কম।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার জন। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার জন।
জানা যায়, সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি গ্রাহককে জাতীয় পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এর জন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, চাকরিজীবীদের পেনশনের চাঁদায় মালিকপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, সরকারেরও অংশগ্রহণ লাগবে; মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে; ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে; এ ছাড়া অক্ষমতায় অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা রাখতে হবে; সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর মুনাফার হার নির্ধারণ করতে হবে।
জানতে চাইলে সাবেক শ্রম সচিব ও কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি শফিকুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সরকারি পেনশনে কর্মীকে চাঁদার টাকা দিতে হয় না; কিন্তু এখানে কর্মীকে টাকা দিতে হয় এবং সেটা দীর্ঘ একটা সময় ধরে দিতে হবে। গ্রাহক চাইলে তার সমস্যার সময় টাকা তুলতেও পাবে না। এ বিষয়টি মানুষকে নিরুৎসাহিত করে। মানুষের মধ্যে আস্থার সংকটও রয়েছে। এ আস্থার সংকট দূর করতে তেমন কিছু করা হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এক সময় পেনশন কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সদস্য ছিলাম। ওই সময় শ্রমিকদের এ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু পারিনি। কারণ মালিকদের শ্রমিকের পেনশনের চাঁদা দেওয়ার বিষয় নিয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের হাতে বর্তমানে যে অর্থ থাকে তার বড় অংশই দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলে যায়। দ্রব্যমূল্যের চাপ, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত পেনশন স্কিমে চাঁদা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এজন্য নতুন করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি রয়েছে আস্থার সংকট। একজন গ্রাহককে দীর্ঘ ১০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। পেনশন নিয়ে যথাযথ প্রচারের অভাবও বড় একটি কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এটি সামাজিক নিরাপত্তায় কর্মজীবী মানুষের জন্য খুবই জরুরি। এর মাধ্যমে মূলধন তৈরি হয়। অথচ তিন বছরে এতে যে পরিমাণ সাড়া, তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এর প্রধান কারণ হলো এ স্কিমকে যেভাবে উপস্থাপন করা বা প্রচার চালানো প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। ফলে মানুষ এ স্কিম সম্পর্কে জানে না বললেই চলে। মানুষ তার পকেটের টাকা কেন এতে দেবে, কী লাভ হবে—এসব বিষয় বোঝানো হয়নি ঠিকমতো। মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ হয়নি। এ ছাড়া কিছু কৌশলগত লক্ষ্য নিতে পারত সরকার। যেমন বিভিন্ন গ্রুপ বা খাতকে এ স্কিমের আওতায় আনতে কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারত, যা হয়নি। এর বাইরে এ সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নানা ধরনের উত্থান-পতন হয়েছে, যা স্কিমের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও সমস্যায় ফেলেছে মানুষকে।