পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত। টানা সাত দিন ছুটি কাটিয়ে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে যোগ দিতে গতকাল ভোর থেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। সড়ক ও নৌপথে ঢাকা ফেরা স্বস্তির হলেও ট্রেনে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেকে। উত্তববঙ্গের প্রায় প্রতিটি ট্রেনই ফিরেছে দুই-আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে দিনভরই ফিরতি যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফেরা মানুষকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ থেকে নেমে গন্তব্যে পৌঁছাতে রিকশা, সিএনজি ও বাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো ঈদ আনন্দের সুখস্মৃতি সবার চোখে মুখে।
দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফেরা কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোগান্তি এড়িয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে আগেভাগেই ঢাকায় ফিরেছেন তারা। জামালপুর থেকে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে সময় কাটিয়েছি। কোরবানি দিয়েছি, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছি।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে নোয়াখালী থেকে আসা আবদুর রহিম বলেন, ঢাকায় একটি মার্কেটে চাকরি করি। দু’এক দিনের মধ্যেই দোকান খুলবে। তাই আগেভাগে চলে এসেছি। পরে আরও বেশি ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের চাপ বাড়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছি। ফিরতি যাত্রীর সংখ্যা বাড়ায় রাজধানীর সড়কেও যানবাহনের উপস্থিতি বেড়েছে। তাছাড়া নগরীতে কর্মচাঞ্চল্যও ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এখনো অনেক এলাকায় ঈদের ছুটির আমেজ বিরাজ করছে, তবে কর্মজীবী মানুষের ফেরার কারণে রাজধানী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাইক রাইডার হাবিব রহমান বলেন, সকাল থেকে এখানে আছি। ধীরে ধীরে মানুষ ঢাকায় আসা শুরু করেছে। এখনো চাপ নেই। চলতি সপ্তাহজুড়ে মানুষ ঢাকায় ফিরবে। আমার কাছে মনে হয় আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা তার চিরচেনা রূপ ধারণ করবে। এদিকে ঈদযাত্রার মতো ফিরতি যাত্রায়ও ভোগান্তিতে পড়েন উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা। এদিন রংপুর, বুড়িমারী, নীলসাগরসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। রংপুর এক্সপ্রেসে ঢাকা ফেরা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ছুটি শেষ হওয়ায় অফিস ও কর্মস্থলের তাগিদে একটু আগেভাগে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। তবে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নারী ও শিশুদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সময়ও লেগেছে অনেক বেশি। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার জানান, অতিরিক্ত যাত্রীচাপে ট্রেনের গতি কিছুটা কমেছে। শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে তৎপরতার কথাও জানান।