Image description

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে পথ দেখাতে ছায়া সরকার গঠন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। কাজ প্রায় চূড়ান্ত। দলের এমপিদের নিয়ে এই সরকার গঠন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চারটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে তারা ছায়া সরকার গঠন করছেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজও শুরু করেছে এ সরকার।

৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। বিরোধী জোটের ছায়া সরকারের ঘোষণা অধিবেশনের শেষ দিকে অথবা শেষে হতে পারে। সংসদ ও সংসদের বাইরে থাকা জামায়াতের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ দুই নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান। তারা বলেন, ৫ ও ৬ জুন দলীয় এমপিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। বাজেট অধিবেশন কেন্দ্র করে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও সেখানে ছায়া সরকারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। এ সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এমপিদের মতামত নেওয়া হবে এবং গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। কার কোন মন্ত্রণালয়ে আগ্রহ রয়েছে- এমপিদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাউকে একাধিক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানান দলীয় নেতারা। বিরোধী দলের ছায়া সরকার হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকল্প সাংগঠনিক কাঠামো। যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের নির্দিষ্ট নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ও বলা হয়।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চারটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে তারা ছায়া সরকার গঠন করতে চান। প্রথমত, মন্ত্রীরা নিজ মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি নীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিকল্প বা উন্নত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা। তৃতীয়ত, বিরোধী দলের নেতাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের খুঁটিনাটি বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা। চতুর্থত, ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ছায়া সরকার গঠনের ঘোষণা আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা আগেই দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। সময়মতো ঘোষণা করা হবে। আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ছায়া সরকারের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছি। অনানুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরুও হয়েছে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। সেটি বাজেট অধিবেশনের পর আসতে পারে বলে জানান তিনি। জামায়াতের কয়েক এমপি বলেন, সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়ামন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গণশিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্থাপন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের মতো মন্ত্রণালয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 সংশ্লিষ্টরা জানান, ওয়েস্টমিনস্টার (ব্রিটেন) ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি দলের অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল একজন ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ নিয়োগ করে থাকে। সরকারি কোনো বিল বা বাজেটের ওপর ছায়া মন্ত্রীরাই বিরোধী দলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধারণা নতুন হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এই ছায়া সরকার গঠনের আলোচনা ও প্রস্তুতি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। ছায়া সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।