Image description

এয়ারপোর্ট হাব হবে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সরকারের উচ্চমহল থেকে এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করা হয়েছে। এখান থেকেই উড়বে বিদেশি এয়ারলাইন্সও। একে একে খুলে দেয়া হবে সব দুয়ার। এমনটিই এতদিন চাইছিলেন সিলেটের মানুষ। কিন্তু পদে পদে বাধার কারণে সেটি আর হয়ে ওঠেনি। সরকারে থাকা সিলেটের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওসমানী নিয়ে অবারিত সুযোগের হাতছানি রয়েছে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি যাত্রীর অভাব নেই। তবু এতোদিন আটকে থাকে এসব প্রক্রিয়া। এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন সিলেটবাসীর সামনে এমন স্বপ্ন ঝুলিয়েছিলেন। বলেও ছিলেন; এয়ারপোর্ট হাব হবে ওসমানী।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিগত সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও বিমানের শক্তিধর সিন্ডিকেটের কারণে সেটি আর হয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আকার ইঙ্গিতে জানিয়েও দিয়েছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায়। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে সবচেয়ে বেশি এক্টিভ বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট থেকে কক্সবাজার ও চট্রগ্রামের সরাসরি ফ্লাইটের দাবি অনেক আগে থেকেই। ঈদের আগে বাণিজ্যমন্ত্রী এ নিয়ে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে এ দু’টি রুটে ফ্লাইট চালু নিয়ে কথা বলেছেন। সামনে মন্ত্রী পর্যায়ে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বিষয়টির দাপ্তরিক কাজ অনেক খানি এগিয়ে রেখেছেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা।

ফলে মন্ত্রী পর্যায়ের আগামী বৈঠকে এ দুটি রুটে ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত সিদ্বান্ত আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিদ্বান্ত হলে আপাতত সপ্তাহে দু’দিন দু’টি ফ্লাইট চালু হতে পারে। গতকাল রোববার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ইউরোপ-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্গো ফ্লাইট চালু করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরের হলরুমে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটির প্রশাসক আব্দুল কাইযূম চৌধুরীও। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও গতিশীল করতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কার্গো পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা দূর এবং রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের চ্যালেঞ্জ নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ এবং সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ঢাকার পাশাপাশি সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু করার ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। সিলেট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে একটি কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সিলেট থেকে ইউরোপের রুটে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এবার সিলেট থেকে বাংলাদেশ বিমানের কার্গো দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের উৎপাদিত পণ্য শাক-সবজি, মাছসহ নানা পণ্য রপ্তানি করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ওসমানীতে একটি অত্যাধুনিক কার্গো হাউস রয়েছে।

সেটি কোনো কাজ করছে না। এজন্য সাপোর্ট হিসেবে একটি প্যাকেজিং হাউস প্রয়োজন। সরকারি ভাবেই এ প্যাকেজিং সিস্টেম চালু করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর হাব করতে বাণিজ্যমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ভারতের আসামের গৌহাটি ও আগরতলায় দুটি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে আলেচনা শুরু হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীসহ তিনি বিষয়টি নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এ দু’টি ফ্লাইট চালু হলে ওই দুই অঞ্চলের লোকজনকে সংযোগ ফ্লাইটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। সেভেন সিস্টারের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বাড়বে। এর বাইরে সিলেট থেকে যাতে অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।