তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২১। পেন-সিলভানিয়ায় ৩, টেনেসিতে ৩, লুইজিয়ানায় ৩, আরকানসাসে ২, টেক্সাসে ২, মিসিসিপিতে ২, ওহাইওতে ১, কানসাসে ১, সাউথ ক্যারোলাইনায় ১, কেন্টাকিতে ১, নিউ জার্সিতে ১ এবং ম্যাসাচুসেটসে ১ জন নিহত হয়েছেন। এমন অবস্থায় সপ্তাহান্তের এই ঝড়ের সবচেয়ে ভারী তুষারপাত উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছে। তবে রকি পর্বতমালার পূর্বে নিউ ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব অঙ্গরাজ্যসহ ২০ কোটির বেশি মানুষ ভয়াবহ শীতের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিবিএস।
সোমবারও বিকাল নাগাদ ৭ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে টেনেসিতেই ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের এই পরিস্থিতি। ভ্রমণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সোমবারও ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মঙ্গলবার ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুষারঝড় কিছুটা স্থায়ী হবে। সোমবার দিবাগত রাতে বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড ও আপস্টেট নিউ ইয়র্কে আরও কয়েক ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়। গ্রেট লেকস এলাকায় লেক-ইফেক্ট স্নো আরও কয়েকদিন চলতে পারে।
মিড-অ্যাটলান্টিক অঞ্চলে (বিশেষত নর্থ ক্যারোলাইনার উত্তরাংশ ও ভার্জিনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে) মঙ্গলবারও ফ্রিজিং রেইন অব্যাহত থাকতে পারে। আই-৯৫ করিডোর ধরে নিউ ইয়র্ক সিটি পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। আগের বরফ জমার সঙ্গে মিলিয়ে এটি ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ও আরও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটাতে পারে।
চরম শীত থেকে গৃহহীনদের সুরক্ষায় নিউ ইয়র্ক সিটিতে ‘এনহ্যান্সড কোড ব্লু’ বহাল আছে। নিউ ইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রাণঘাতী তাপমাত্রার কারণে শহরে ‘এনহ্যান্সড কোড ব্লু’ বহাল আছে। এর অর্থ আশ্রয় চাইলে কাউকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না। ৫০টির বেশি হাসপাতাল ও শহরের একাধিক গৃহহীন সেবাকেন্দ্র এতে যুক্ত। মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার এই ব্যবস্থা সক্রিয় করেন। পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে হাইস্কুল ক্যাম্পাসে দু’টি করে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হাইপোথার্মিয়া ও ফ্রস্টবাইট দ্রুত হতে পারে। এই অবস্থায় কেউ যেন বাইরে না থাকেন।
ডালাসে চরম শীতে গৃহহীনদের জন্য খোলা একটি কেন্দ্রে প্রায় ১১৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অতিরিক্ত ১০টি পরিবারের ১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ২৩ শিশু হোটেলে স্থান পেয়েছেন। ফায়ারফাইটাররা রাতে ২৪ জন গৃহহীনকে রাস্তা থেকে সরিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১৫৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৫টি স্নোপ্লাওয়ের মধ্যে ৩৭টি অচল হওয়ায় পিটাসবার্গে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তাপমাত্রা রাতে মাইনাস ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে। ভারী তুষার ও চরম শীতে ওহাইও রাজ্য জুড়ে ২৭০০টির বেশি ঘটনায় ট্রুপাররা সাড়া দিয়েছে। গভর্নর মাইক ডিওয়াইন নিরাপত্তা কিটসহ অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নিউ জার্সিতে তুষার পরিষ্কার করতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৬৭ বছর। বরফ পরিষ্কার করার সময় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। নিউ হ্যাম্পশায়ারে সপ্তাহান্তে ১২৬টি সংঘর্ষ/সহায়তার ঘটনায় সাড়া দিয়েছে পুলিশ। রাস্তা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্টাকিতে হাইপোথার্মিয়ায় ৭২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আরও ৩টি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন। গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ঘরে থাকতে অনুরোধ করেছেন লোকজনকে।