ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আবারো ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফকিরাপুলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাটওয়ারীকে হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় রাজধানীর শান্তিনগর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে এনসিপি নেতাকর্মীরা। এদিকে, রাজধানীতে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গেলে সেখানে তাকে বাধা দেয়া হয়। এ সময় তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে আমাদের যা করণীয় আমরা তাই করবো।
গত কয়েক দিনে দেশের ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে।
বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কী? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য মঞ্চে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।
আজকে যেটা হয়েছে, সেটি খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এটি অস্বীকারের চেষ্টা আরও বেশি ন্যক্কারজনক। হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে। মির্জা আব্বাসের নির্দেশে তারেক রহমানের সম্মতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। একদিকে মঞ্চে উঠে ভালো ভালো কথা বলবেন, অন্যদিকে বিরোধীদের সন্ত্রাসী কায়দায় দমন করবেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসন করবেন, সেটি হতে দেব না।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে যাওয়ার পর তাদের ওপর ইট-পাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্যের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া হামলায় হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্বাস তার ভাগনে আদিত্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, ইসি একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিয়ে প্রার্থীদের খালি মাঠে ছেড়ে দিয়েছে।
এরআগে সকালে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের পিঠা উৎসবে পাটওয়ারী ছিলেন এই উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি। তিনি সেখানে পৌঁছালে কিছু তরুণ তাকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেয়। এরপর ধাক্কাধাক্কিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পাটওয়ারীর ওপর শারীরিক আক্রমণেরও অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফকিরাপুল মোড়ে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নেতাকর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে পারাবত হোটেলের সামনে অবস্থান নেন।