আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত চার লাখের বেশি সংখ্যক প্রবাসী ভোট দিয়েছেন। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এদিন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৮ জন প্রবাসী ভোট দেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন প্রবাসী ভোট দেয়া শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ইতিমধ্যে ২১ হাজার ৫০৮টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ প্রবাসীর কাছে এ ব্যালট পাঠিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ প্রবাসী। প্রবাসীদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ভোট দিয়ে কাছের পোস্ট অফিসে পাঠাতে বলেছে কমিশন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট পৌঁছালেই কেবল সেটি ভোট গণনায় যুক্ত হবে।
দেশে ও দেশের বাইরে থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেন, যাদের অর্ধেকের বেশি প্রবাসী। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ওইদিন পোস্টাল ব্যালট গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন প্রেসিডেন্ট
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চিঠি দিয়েছেন। ডাকের মাধ্যমে পাবনাতে তার কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়।
ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, উনি (প্রেসিডেন্ট) চেয়েছেন, চিঠি দিয়েছেন, উনি ভোট দিতে পারবেন। তার কাছে পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠানো হবে। যতদূর জানি, তিনি (প্রেসিডেন্ট) জানিয়েছেন, পাবনা থেকে তিনি ভোট দেবেন। ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তার ভোট দিয়েছিলেন।
বিনা মাশুলে ডাকযোগে ফলাফল পাঠাবেন প্রিজাইডিং অফিসাররা
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগণনার বিবরণী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রিজাইডিং অফিসাররা অগ্রিম কোনো ডাক মাশুল পরিশোধ ছাড়াই ফলাফল বিবরণীর কপি সরাসরি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে পারবেন। মঙ্গলবার নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইসি’র নির্দেশনায় জানানো হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট গণনার বিবরণীর একটি কপি বিশেষ খামের মাধ্যমে ডাকযোগে সরাসরি ইসি সচিবের কাছে পাঠাবেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো অগ্রিম অর্থ খরচ করতে হবে না। চিঠিপত্রগুলো বীমাকৃত ডাকযোগে অথবা প্রাপ্তি স্বীকার রেজিস্টার্ড পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। এই ডাক মাশুলের ব্যয় পরবর্তীতে ‘বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর মাধ্যমে ডাক বিভাগকে পরিশোধ করবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি জানায়, ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত (প্রয়োজনে সারারাত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত) সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত প্রিজাইডিং অফিসাররা যেন ভোটগণনা শেষ করেই দ্রুত ফলাফল পোস্ট করতে পারেন, সেজন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
জরুরি ভিত্তিতে পৌঁছানোর নির্দেশনা
চিঠিতে আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত এই বিশেষ ডাক সেবা অব্যাহত থাকবে। প্রেরিত ফলাফল বিবরণী জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর জন্য ডাক বিভাগকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারদের অবশ্যই পোস্ট অফিস থেকে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র সংগ্রহ করতে হবে।