খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এখন শুধু চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাই নন, সিলেট বিএনপি’র অভিভাবকও। মূলত তাকে ঘিরেই আবর্তিত সিলেট জেলার বিএনপি’র রাজনীতি। একটি বৈঠক। অনেক জল্পনা সিলেটে। আর বৈঠকের একদিকে মুক্তাদিরের অবস্থান, অন্যদিকে হযরত মাওলানা হুসামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। কী কথা দু’জনের। সূত্র বলছে; বৈঠকেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। খন্দকার মুক্তাদির ও হুসামউদ্দিন এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচনে ফুলতলী অনুসারীদের সমর্থন পাবে বিএনপি। শুধু সিলেট-১ আসনেই নয়, সব আসনে পড়বে এর প্রভাব।
আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম। ফুলতলীর পীর হিসেবে দেশ জুড়ে পরিচিতি। সিলেট অঞ্চলে বিশাল ভোট ব্যাংক ফুলতলীর পীরের অনুসারীদের। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিষয়টির দেখভাল করেন ফুলতলী পীরের ছোট ছেলে হুসামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। তিনি সাবেক এমপি। স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। জয়ীও হন। ফুলতলীর ভোট চান সবাই। এ কারণে ইসালে সওয়াব মাহফিলে প্রার্থীদের আনাগোনা ছিল বেশি। দোয়া নিতে গেছেন সিলেট-৫ আসনসহ কয়েকটি আসনের প্রার্থীরা।
মাওলানা হুসামউদ্দিন এখন প্রায়ই বসেন তার পিতার প্রতিষ্ঠিত সুবহানীঘাট মাদ্রাসায়। বাসাও ওই এলাকায়। শহর ও গ্রাম দু’জায়গাই থাকেন। জকিগঞ্জের বাড়িতে প্রার্থীরা যাওয়া-আসা করেন। এখন সিলেট নগরে মাদ্রাসা ও বাসায় যাচ্ছেন প্রার্থীরা। দোয়া নিচ্ছেন। আল ইসলাহ নেতা ও ফুলতলী পরিবারের সদস্য মাওলানা রেদোয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী জানিয়েছেন- সব দলের প্রার্থীরা যাচ্ছেন। দেখা করেছেন। দোয়া চেয়েছেন। যেহেতু এবারের নির্বাচনে তাদের পরিবার কিংবা মসলক থেকে প্রার্থী নেই সে কারণে সবার জন্য এবার উন্মুক্ত দরজা। হুসামউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সিলেট-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বৈঠক হয়েছে সোমবার রাতে। সুবহানীঘাটেই হয় সেই বৈঠক। বৈঠকটি নজর কেড়েছে সবার। সঙ্গে ছিলেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। আল-ইসলাহ নেতারাও ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছেন- আলোচনায় প্রাধান্য পায় জাতীয় নির্বাচন। আলোচনা বেশ আন্তরিক হয়েছে। সৌহার্দ্য পূর্ণ পরিবেশেই হয়েছে দু’নেতার আলোচনা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন-ফুলতলী মসলক বা ফুলতলী পরিবার বরাবরই জামায়াত রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান করেন। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই ভালো ছিল না, আবার খারাপও ছিল না। বিভিন্ন সময় ইসলামের নানা ইস্যুতে বিএনপি’র সঙ্গে বেশি বনিবনা হয়েছে ফুলতলী অনুসারীদের। প্রায় তিন দশক আগে সিলেটে এক সারিতে বারবার বসে ছিলেন প্রয়াত মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম সাইফুর রহমান ও আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী। সঙ্গে কওমি অঙ্গনের তারকা আলেমরাও এক কাতারে ছিলেন। বিএনপি’র সঙ্গে ফুলতলী অনুসারীদের সুসম্পর্কের ইতিহাস। এরকম ইতিহাস আওয়ামী লীগের সঙ্গেও নেই। ফলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে মাওলানা হুসামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীর বৈঠকের নানা ইতিবাচক দিক নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকা নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট-১ আসনের প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে মাওলানা হুসামউদ্দিনের বৈঠক ছিল আন্তরিকতায় পূর্ণ। আমরা আশা করছি; সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ফুলতলী মসলকের সমর্থন পাবেন।