ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আর বাকি দুই সপ্তাহ। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নানা কৌশলে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থীরাও প্রচারণায় তুমুল ব্যস্ত। এ আসনে মূল লড়াই হবে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক ও জামায়াতের প্রার্থী আবদুল বাতেনের মধ্যে। ওদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, তাদের কর্মী এবং সমর্থকরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
প্রার্থীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। তাদের ভালো-মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। এলাকায় সমস্যার কথাও শুনছেন। একই সঙ্গে তারা জয়ী হলে এলাকায় উন্নয়নে কী কী করবেন, সেই প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। ওদিকে নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চমদিনে সোমবার মিরপুর-৬ নম্বর এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন আমিনুল হক। আর পল্লবী দক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন আবদুল বাতেন।
বিকশাচালক রবিউল। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, এই আসনে আমিনুল হকের জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রাত ২টা কিংবা ৩টার সময়ও তাকে ডাকলে পাশে পাওয়া যায়। আর অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে তার প্রচারণাও বেশি। তবে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল বাতেনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান- আরেক রিকশাচালক।
সরজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-১৬ আসনে চা ও মুদির দোকানে নির্বাচনী আড্ডা জমে উঠেছে। কোন দলের কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। কার জনপ্রিয়তা বেশি। কে নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়ন করবেন। এ সব বিষয় নিয়ে মুখরোচক আড্ডা। এক্ষেত্রে আমিনুল হককে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। আবার দুই-একজন আবদুল বাতেনকে এগিয়ে রাখছেন। সবার মুখে একটাই কথা, যিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়ন করবেন, তারা তাকেই ভোট দেবেন। এখানে আবদুল বাতেনের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন আমিনুল হক।
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার ফয়জুল ইসলাম বলেন, আমিনুল হক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। নিজেও ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত। মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়ান। আর এলাকার ছেলে হিসেবেও আলাদা সহানুভূতি পাবেন। জামায়াতের প্রার্থী আবদুল বাতেনেরও ভালো সমর্থক আছেন।
এলাকায় ব্যবসায়ী ও ভোটার ফজলুল করিম মানবজমিনকে বলেন, আমিনুল হক একজন ভালো মানুষ। ডাকা মাত্র এলাকার মানুষ তাকে পাশে পান। এমন মানুষকেই সবাই চান।
এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের উচ্ছেদ আতঙ্ক দূর করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনার এক নম্বরে রয়েছে, এই অবহেলিত মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এছাড়া অর্থের অভাবে কেউ যেন শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রতিটি ঘরে বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবো। এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’- নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আমিনুল হক।
ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল বাতেন মানবজমিনকে বলেন, মিরপুরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। হাসপাতালও নেই। আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই তাহলে এই এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন করবো। আর একটা সরকারি হাসপাতাল করবো। মাদক ও সন্ত্রাসের নির্মূল করবো। যদিও জামায়াত ক্ষমতায় এলে এগুলো এমনি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ এসব হয় ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায়। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী জানিয়ে বলেন, ৫ই আগস্টের পর মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা পরির্বতন চায়। কারণ তারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি আর চায় না।