বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে ব্রাজিল। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ সমতায় আছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল মরক্কোর। ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত, আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে আফ্রিকার দলটিকে। মাঝমাঠে ব্রাজিলকে চাপে রেখে দ্রুত আক্রমণে উঠছিল তারা। সেই চাপ থেকেই প্রথম গোল পায় মরক্কো।
২০ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ পাসে ব্রাজিলের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে আলিসনকে পরাস্ত করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন পিএসভি ফরোয়ার্ড। গোলটি শুধু স্কোরলাইন বদলায়নি, ব্রাজিলের অস্বস্তিও আরও স্পষ্ট করে দেয়।
শুরুর দিকে আনচেলত্তির দল মাঝমাঠে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসের ওপর চাপ তৈরি করছিল মরক্কোর মিডফিল্ড। ব্রাহিম, ওনাহি ও এল খানুসদের মুভমেন্ট বারবার ব্রাজিলের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলছিল।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আরও চওড়া জায়গায় ব্যবহার করা, পাকেতাকে কিছুটা নিচে এনে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং রাফিনিয়াকে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আক্রমণে গতি বাড়ায় সেলেসাওরা।
৩১ মিনিটে আসে সেই প্রত্যাশিত জবাব। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে ডান পায়ে জোরালো শট নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে হারিয়ে বল জালে জড়ালে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। কঠিন সময়ে ভিনিসিয়ুসের এই গোলই আনচেলত্তির দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
গোলের পর ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা প্রাণ ফেরে। চাপ বাড়াতে থাকে তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লুকাস পাকেতার দারুণ এক প্রচেষ্টা বোনোকে পরীক্ষা নেয়। তবে মরক্কোও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও শারীরিক লড়াইয়ে তারা ব্রাজিলকে বারবার ব্যস্ত রেখেছে।
প্রথমার্ধে ম্যাচের উত্তাপও কম ছিল না। কাসেমিরো ও রজার ইবনেজ হলুদ কার্ড দেখেছেন। ভিনিসিয়ুস ও আশরাফ হাকিমির লড়াই, ব্রাহিম দিয়াজের প্রভাব এবং মাঝমাঠের দ্বৈরথ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে তীব্র লড়াইগুলোর একটি।
ম্যাচের আগে সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও মাঠে নেমে চমক দেন আনচেলত্তি। দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর বদলে রক্ষণে শুরু করেন রজার ইবনেজ ও ডগলাস সান্তোস। আক্রমণের মাঝখানে মাতেউস কুনিয়ার বদলে সুযোগ পান ইগর থিয়াগো। নেইমার চোটের কারণে ম্যাচের স্কোয়াডে নেই।