টি-টোয়েন্টির রান টেস্ট ক্রিকেটে সরাসরি অনুবাদ হয় না। কিন্তু রান একজন ব্যাটসম্যানকে যে আত্মবিশ্বাস দেয়, সেটির মূল্য সব সংস্করণেই আলাদা। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা তাই বাবর আজমের সাম্প্রতিক ফর্মকে মিরপুর টেস্টের আগে দলের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগের সংবাদ সম্মেলনে বাবরকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সালমান তাকে পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন বলে উল্লেখ করেন। তার বিশ্বাস, পিএসএলে যে ছন্দে ছিলেন বাবর, সেটি টেস্টেও কাজে লাগাতে পারবেন।
সালমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে পাকিস্তানের তৈরি করা সেরা খেলোয়াড়দের একজন, সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। রান করা সবসময় ভালো। একজন ব্যাটসম্যান রান করলে আত্মবিশ্বাস পায়। আমাদের জন্য এটা খুব ভালো লক্ষণ যে সে অনেক রান নিয়ে আসছে।’
পিএসএলের পারফরম্যান্স টেস্টে পুনরাবৃত্তি করার আশা পাকিস্তান শিবিরের। সালমানের ভাষায়, ‘আমরা চাই বাবর পিএসএলে যে পারফরম্যান্স করেছে, এই টেস্ট ম্যাচগুলোতেও সেটি পুনরাবৃত্তি করুক।’
বাবরের অল ফরম্যাট সামর্থ্যও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সালমান। তার মতে, বাবর এমন ব্যাটসম্যান, যিনি পাকিস্তানের হয়ে বহু বছর ধরে তিন সংস্করণেই সমান দক্ষতায় খেলছেন। টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্টে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার আছে।
‘সে অল ফরম্যাট খেলোয়াড়। পাকিস্তানের হয়ে সব সংস্করণেই সমান ভালো খেলে, অনেক বছর ধরে সেটি করে আসছে। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্টে এসে একই ফর্ম নিয়ে আসার মতো মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার আছে,’ বলেছেন সালমান।
পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক। তার মতে, মিডল অর্ডার একটি দলের ইঞ্জিনরুম। সেখানে বাবর, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও নিজে সালমান আলী আগা, বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে খেলছেন। এই স্থিতিই পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উর্দুতে দেওয়া উত্তরে সালমান বলেন, ‘মিডল অর্ডার ইঞ্জিনরুম। বাবর, রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও সালমান আলী আগা অনেক দিন ধরে আছে। টপ অর্ডারে বেশির ভাগ পরিবর্তন এসেছে ইনজুরি বা অনুপস্থিতির কারণে।’
ইমাম-উল-হকের ফেরা নিয়েও ইতিবাচক পাকিস্তান অধিনায়ক। তার মতে, গত তিন-চার বছরে ইমামও টেস্ট ইউনিটের নিয়মিত অংশ ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে তিনি দলে ফিরেছেন, যা পাকিস্তানকে ভালো সুযোগ দিচ্ছে।
সালমান বলেন, ‘ইমামকে যদি গত তিন-চার বছরে দেখেন, প্রায় একই সেটলড টেস্ট ইউনিট খেলছে। তারা বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলেছে, নিজেদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে আসে। এটা আমাদের এখানে পারফর্ম করার সেরা সুযোগ দেয়।’
তবে মিরপুরে কাজটা সহজ হবে না, সেটিও জানেন সালমান। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে তার মূল্যায়ন বেশ উঁচু। বাঁহাতি পেসার, ডানহাতি পেসার, গতি ও স্কিল, সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ আক্রমণ বললেন তিনি।
সালমানের ভাষায়, ‘বাংলাদেশের আক্রমণ খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। বাঁহাতি পেসার আছে, ডানহাতি পেসার আছে, গতি আছে, স্কিলও আছে। এটি খুব ভালো আক্রমণ। আমার দেখা সম্ভবত সেরা বাংলাদেশ আক্রমণ।’