Image description

বাংলাদেশ দলের পেস ইউনিটের অন্যতম সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে পিএসএলের মাঝ পথেই দেশে ফিরেন বাঁহাতি এই পেসার। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই ওয়ার্ম-আপের সময় হাঁটুতে আঘাত পান তিনি। যে কারণে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছিলেন না এই কাটার মাস্টার।

আজ তৃতীয় একদিনের ম্যাচেই দলে ফিরেন মোস্তাফিজ। ফিরেই সব আলো কেড়ে নিলেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। এক, এক করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মূল্যবান পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর আর পাঁচ উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না ‘দ্য ফিজ।’ অবশেষে আজ চোট কাটিয়ে দলে ফিরেই দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে।

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তাতেই নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। এই কীর্তিতে বাঁহাতি পেসারদের তালিকায় তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টকে। তার ওপরে আছেন কেবল মিচেল স্টার্ক, যিনি নয়বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।

 

প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ম্যাচটাও আবার সিরিজ নির্ধারণী। স্বাভাবিকভাবেই ছিল বাড়তি চাপ, তার ওপর চট্টগ্রামের তাপদাহ।সব মিলিয়ে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু শুরু থেকেই পরিকল্পনা মেনে বল করেছেন ফিজ। স্লোয়ার আর কাটারের ফাঁদে ফেলে একে একে কিউই ব্যাটারদের সাজঘরের পথ দেখান। তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কেউই স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেননি।

 
 

২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ডিফেন্ড করতে নেমে শুরুতেই আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারের মাথায় হেনরি নিকোলসকে (৪) বাউন্সারে কুপোকাত করে শুরুটা করেন তিনি। এরপর উইল ইয়াং ও নিক কেলির ৪৬ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাহিদ রানা ১৪৬ কিমি গতির এক ডেলিভারিতে ইয়াংকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও বল হাতে কিউই দলপতি টম ল্যাথামকে (৫) থিতু হতে দেননি।

 

একপ্রান্ত আগলে রেখে নিক কেলি ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে সফরকারীদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনেন মোস্তাফিজুর। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় নিউজিল্যান্ড। শরিফুলের বলে বোল্ড হন মুহাম্মদ আব্বাস (২৫)।

মিরপুরে শেষ ওয়ানডের মতো পেসার নাহিদ রানা আজও গতির ঝড় তুলেছেন। ঘণ্টায় ১৪৮.৬ কিলোমিটার গতির এক বিষাক্ত ইয়র্কারে তিনি উপড়ে ফেলেন জশ ক্লার্কসনের লেগ স্টাম্প। অন্যদিকে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ছিল অসাধারণ। মোস্তাফিজের বলে মিড উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের অসামান্য ক্যাচ এবং শর্ট মিড উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের শূন্যে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল দেখার মতো।

শেষ দিকে উইল ও’রোউর্ককে বোল্ড করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ। ১২০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট শিকার। একই সাথে প্রথম পেসার হিসেবে চট্টগ্রামের মাটিতে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার নতুন এক ইতিহাস গড়লেন ‘কাটার মাস্টার।’

মোস্তাফিজের পাঁচ উইকেটের গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, ভারতের বিপক্ষে সিরিজে—সেই সিরিজেই দুইবার। একই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয়বার। এরপর ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও দুইবার এই কীর্তি গড়েন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে আবার পাঁচ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ।

বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেটের মালিক মিচেল স্টার্ক। তিনি নয়বার এই কীর্তি গড়ছেন। আর সব মিলিয়ে একদিনের ক্রিকেটে এই কীর্তিতে শীর্ষে আছেন ওয়াকার ইউনুস। তিনি ১৩ পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছেন।