সরকারি-বেসরকারিসহ সব ধরনের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়ন করতেও ডোপ টেস্ট করতে হবে। কাউকে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে নমুনা হিসেবে প্রস্রাব, রক্ত, মুখের লালা, চুল ও নখ সংগ্রহ করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
১২ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত বিধিবিধান সামনে রেখে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। কিন্তু এ নীতিমালার কার্যক্রম এখনো শুরু না হলেও ডিএনসি বলছে, ডোপ টেস্টের কার্যক্রমে গতি আনতে প্রশিক্ষণ, প্রচার, সচেতনতা, বাস্তবায়নসহ নানান বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি (টেকনিক্যাল কমিটি) গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিই ডোপ টেস্টের ভালোমন্দ নির্ধারণ করবে।
ডিএনসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করাতে হবে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে চাকরিরত অবস্থায় কেউ মাদক গ্রহণ করেছেন সন্দেহে হলে; গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালনার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে; কর্মরত অবস্থায় গাড়িচালকরা মাদক গ্রহণ করেছেন সন্দেহ হলে; উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী মাদকদ্রব্য গ্রহণ করেছে সন্দেহ হলে; বিদেশগমনে ইচ্ছুক কর্মী মাদকাসক্ত কি না যাচাইয়ের ক্ষেত্রে; আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে; স্থলযান, নৌযান ও আকাশযান চালনার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে; চিকিৎসক কর্তৃক চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে সরকার কর্তৃক নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করাতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, কাউকে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক তার ডোপ টেস্ট করা হবে এবং তাৎক্ষণিক রেজাল্ট পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নমুনা (প্রস্রাব, রক্ত, মুখের লালা, চুল ও নখ) সংগ্রহের মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হবে এবং এটি ল্যাবে পাঠানোর পর রেজাল্ট পাওয়া যাবে। ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে এই টেস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ডোপ টেস্টের সার্বিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবে টেকনিক্যাল কমিটি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন ডিএনসি সদস্যরা। ডিএনসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ডোপ টেস্ট গেজেট প্রকাশের পর ডিএনসি সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করা হয়েছে। প্রচারের জন্য প্রতিটি জেলায় কিছু লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তবে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে ডিএনসি সদর দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ডিএনসির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আবদুুল হালিম রাজ জানান, ডোপ টেস্ট বাস্তবায়নে সেমিনার, কর্মশালা ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধাপে ধাপে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। ডোপ টেস্ট-সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। গেজেট হওয়ার পর থেকেই ডোপ টেস্ট কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।