দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অপার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি-বিপদ:
- সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সংসদের পূরো নিয়ন্ত্রন থাকবে সরকারের হাতে। হর্স ট্রেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আইন প্রণয়ন, বিল উত্থাপন ও পাস এবং সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দল বা জোটের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। সবকিছুতেই সংসদে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
- বাংলাদেশের গণতন্ত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অপার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি-বিপদ দুটোই আছে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিনাম ও অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়।
- স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলশ্রুতিতে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো দেশে। পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডি তো সবার সামনে, জীবন দিতে হয়েছিল তাকে ও তার গোটা পরিবারকে।
- সত্তর দশকের শেষের দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে বেশিদিন দুনিয়ায় থাকতে দিলো না।
- এরশাদের পূরো শাসনামল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংসদ ছিল ভরপুর। কি জাতের নির্বাচন ছিল ঐ সময় তা অন্য বিতর্ক। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এরশাদের বিদায় হয়েছে অপমানজনকভাবে গণঅভ্যুত্থানে। তকমা পেয়েছিলেন “স্বৈরাচারের” ও “নয় বছরের রাজা দশ বছরের সাজা”র।
- ২০০১ সালে চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। দেশি- বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণে ১/১১ আসে। এরপরের ১৭ বছরের তাদের ও জাতির সাফারিং তো সবার জানা।
- ২০০৮ এর নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়ে নির্বাচনকে পাঠালেন নির্বাসনে। প্রতিষ্ঠা করেন ফ্যাসিবাদ। যার ফলশ্রুতিতে দেশ ছেড়ে পালান ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে।
আশা করি বিএনপি ও তারেক রহমান এদিকে সচেষ্ট থাকবেন ও সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। আমরা চাই আপনারা নির্বিঘ্নে দেশ চালান পাঁচ বছর
ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ