লক্ষ্মীপুরে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার ধারাবাহিক পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের (ভ্যানগার্ড) স্ক্রিনশট থেকে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলার ছক আঁকা হচ্ছিল।
পরিকল্পনায় টার্গেট যারা
ফাঁস হওয়া কথোপকথন অনুযায়ী, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা হাবিবুর রহমান ফাহিম, মুরাদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরমানসহ বেশ কয়েকজনকে টার্গেট করা হয়। চ্যাটিং গ্রুপটিতে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ফেসবুক লিংক শেয়ার করে তাদের ওপর শারীরিক হামলা চালানোর নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। কথোপকথনে ফাহিমকে 'শিবির কর্মী' ও 'বি এন পি বিরোধী প্রচারণাকারী' হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে "দ্রুত ছ্যাঁচা (আঘাত) দেওয়ার" কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার বাস্তবায়ন ও প্রাণনাশের চেষ্টা
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবে গুলিবিদ্ধ আহত যোদ্ধা ফাহিমকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায় আকবর মুন্নার নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র গ্রুপ। হামলায় ফাহিম গুরুতর আহত হন। জানা গেছে, শুধুমাত্র ফাহিমই নয়, আরমান, জিসান ও পিংকির মতো প্রথম সারির জেলা সমন্বয়কদেরও এই হামলার তালিকায় রাখা হয়েছিল।
প্রচারণা ও ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা
ফাঁস হওয়া তথ্যে আরও দেখা যায়, হামলার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ বা বিশেষ একটি গ্রুপকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। তারা ফাহিম ও তার সহযোদ্ধাদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হামলার বিষয়টিকে যৌক্তিক হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা চালায়।
জনমনে ক্ষোভ
জুলাইয়ের রাজপথ কাঁপানো যোদ্ধাদের ওপর নিজ দলের পরিচয়ে এমন নগ্ন হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।