Image description

পাল্টা শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমেছে চীনের তৈরি পোশাক রফতানি। দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। তবে চীনের পাল্টা শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হওয়ায় দেশটির রফতানিও বেশি কমেছে। সেই সুযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান দখল করে নেয় বাংলাদেশ। মার্চ শেষেও সেই অবস্থান কিছুটা সুসংহত রয়েছে। আর শীর্ষস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রফতানিতে তিন শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চীন, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের রফতানি কমেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। অটেক্সার প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজার ৭৭৩ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। অন্যদিকে চীনের রফতানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি ১৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে এদিকে বাজারটিতে শীর্ষ রফতানিকারক ভিয়েতনাম চলতি বছরের জানুয়ারি টু মার্চ সময়ে ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১২২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের একই সময়ে তাদের রফতানি ছিল ১২৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে তাদের রফতানি কমেছে দশমিক ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রফতানি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে ১১০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে ভারত। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫১ কোটি ডলার। ফলে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির রফতানি কমেছে ২৭ শতাংশ।

পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে ৯ ফেব্রুয়ারি। সে চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার কমে হয় ১৯ শতাংশ। তবে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তারপর সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক স্থগিত করেছেন।

পাল্টা শুল্কের প্রস্তাবে শুরুতে বেকায়দায় থাকলেও পরে প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। তার কারণ, বাংলাদেশের মতো ভিয়েতনামের শুল্ক ছিল ২০ শতাংশ। তার বিপরীতে ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার ৫০ শতাংশ। চীনের শুল্ক আরো বেশি। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। তবে পরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। কারণ, শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আর ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে।