এই প্রথমবারের মতো নির্বাচনের পরে সহিংসতা বা সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দচিত্তে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
প্রেস সচিব বলেন, এবার এমন একটা নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দল এবং জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীরা বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আর এবারই প্রথম একটি নির্বাচন হয়েছে যে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমি আশা করব, আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশনের পারফরম্যান্সেও খুশি উপদেষ্টা পরিষদ। তাদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এর চেয়ে ভালো নির্বাচন বাংলাদেশে হয়েছে কিনা, এটা সন্দেহ। এ সময় নির্বাচনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। আপনারা জানেন জুলাই-আগস্টে পুলিশের রুলের কথা। সেটা আর বলতে চাচ্ছি না। অনেকে বলেছে পুলিশের কনফিডেন্স স্লো। এই পুলিশ দিয়ে আদৌ একটা ভালো ইলেকশন করতে পারব কি না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন যে তারা যথেষ্ট ভালো করেছে।
এ সময় হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকার ধর্ষণের ঘটনায় একটি কমিটি করে দেবে, যারা এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে।
শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন যে নির্বাচনের পরে চারজনের মৃত্যুর কথা শোনা গেলেও, সত্যি কথা হলো নির্বাচনি সহিংসতায় মারা গেছেন একজন।
এদিকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান প্রেস সচিব।