ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নবনির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
তবে তিনি জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সেনাপ্রধান সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা সদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নির্বাচনের সময় অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংবেদনশীল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে চমৎকার দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর দক্ষতা দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে মনে করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, গত দেড় বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা দেশ ও জাতি দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ ও জনগণ সেনাবাহিনীর এই সেবাকে স্মরণ রাখবে।’
বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’
এ সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের কথাও তিনি তার ভাষণে তুলে ধরেন।