গুমের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী বলেছেন, গুমকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার মতো কার্যকর আইন চাই। গুম আইন শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, অতীতে গুম হওয়াদের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১৭ মে) সিরডাপ মিলনায়তনে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে' জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে' অংশীজন সভায় তিনি একথা বলেন
সভায় প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, ইউএনডিপি বাংলাদেশ আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, আইনজীবী, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তাহসিনা রুশদী তার বক্তব্যে জানান, তাঁর স্বামী এম ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম হন। এরপর থেকেই তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর বিচার ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
তিনি বলেন, আমি সংসদে গিয়েছি ইলিয়াস আলীর কথা বলার জন্য, গুমের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
তিনি অভিযোগ করেন, গুম কমিশন গঠনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্পর্কে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে জানানো হয়নি।
তাহসিনা রুশদী বলেন, আইনে প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয় থাকলেও অতীতে যারা গুম হয়েছেন, তাদের বিষয়ে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। যারা এখনো ফিরে আসেননি, তাদের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ ও সমস্যার বিষয়টিও আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে পরিবারগুলো স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু এর মধ্যেও বিভিন্নভাবে সামাজিক ও গণমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে।
আইনমন্ত্রী গুম আইন নিয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে অগ্রগতি হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে তাহসিনা রুশদী আশা প্রকাশ করেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি আইন প্রণয়ন হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো গুমের ঘটনা না ঘটে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী