বাংলাদেশ-ভারত উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারে বেড়া দেবে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় আসার পরই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার পরেই সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বৈঠকে বসেছে বিএসএফ ও সরকারি কর্মকর্তা। রোববার (১৭ মে) ছুটির দিন আবার সীমান্ত পরিদর্শন করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ ছয়ঘড়িয়া পঞ্চায়েতের কালিয়ানী সীমান্তে কাঁটাতার বিহীন এলাকা পরিদর্শন করেন খাদ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সমবায়বিষয়ক এই মন্ত্রী।
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে সেখানকার বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) যান তিনি। বৈঠক করেন বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কথা বলেন সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয় মানুষদের সঙ্গেও। এ সময় মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাঁটাতার দেওয়া হবে। কাঁটাতার লাগানো নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে ব্যক্তিগত জমির নির্ধারিত দাম পাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে। এই জেলার বসিরহাট ছাড়া অন্য কোথাও জমিসংক্রান্ত জটিলতা নেই। বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত তিনটে মৌজায় জমিসংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের মানুষদের বোঝানোর কাজ চলবে।
বিজেপির এই মন্ত্রী আরও বলেন, সমস্যার মিটে গেলে খুব ভালো না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) হোক বা তৃণমূলের গুন্ডা, কারও সঙ্গেই কম্প্রোমাইজ করা হবে না, কে বাধা দিল তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।
অন্যদিকে মালদায় সরকারের নির্দেশের পর ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে স্থানীয় চাষিদের থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ। মালদা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত শুক্রবার সকাল থেকেই হবিবপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মকর্তারা সীমান্ত এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলে হবিবপুর ব্লকের জাজইল অঞ্চলের ভবানীপুর, ভাবুক, আগ্রা, ইটাঘাটি, কোটালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিটি এলাকাতেই সীমান্ত এলাকার কৃষকরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য জমি দিতে স্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে জমি দিয়েছেন।
হবিবপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক স্বপন তরফদার জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য রাজ্য সরকার বিএসএসের হাতে জমি তুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতে তারা জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকরা স্বেচ্ছায় তাদের জমি তুলে দিচ্ছেন। জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।