বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে ক্যানসার মানেই আর অবধারিত মৃত্যু নয়। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে এবং আধুনিক চিকিৎসা যেমন—কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা টার্গেটেড থেরাপির মাধ্যমে রোগী সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন।
১. ইমেজিং বা স্ক্যান রিপোর্ট (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)
চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট সময় পরপর কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন:
সিটি স্ক্যান , এমআরআই এবং পিইটি-সিটি : এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে দেখা হয় টিউমারের আকার আগের চেয়ে ছোট হয়েছে কি না বা নতুন কোনো কোষে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না। টিউমার ছোট হওয়া একটি অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
২. টিউমার মার্কার (রক্ত পরীক্ষা)
রক্তে কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন বা উপাদানের মাত্রা দেখে ক্যানসারের উপস্থিতি বোঝা যায়।
প্রোস্টেট ক্যানসার
কোলন বা ফুসফুসের ক্যানসার
ডিম্বাশয়ের ক্যানসার
স্তন ক্যানসার
ওষুধ কার্যকর হলে এই মার্কারগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
৩. শারীরিক অবস্থার উন্নতি
ল্যাব পরীক্ষার পাশাপাশি রোগীর শারীরিক কিছু পরিবর্তনও ওষুধের কার্যকারিতা নির্দেশ করে:
ব্যথা উপশম: ক্যানসারজনিত তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি কমে আসা।
টিউমারের আকার হ্রাস: স্তন বা থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে অনুভব করা যায় এমন চাকা বা ফোলাভাব কমে যাওয়া।
ক্ষুধা ও শক্তি: খাবারে রুচি ফেরা এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: ক্যানসার রোগীদের দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার প্রবণতা থেমে গিয়ে ওজন স্থিতিশীল হওয়া।
৪. রক্তের সাধারণ প্যারামিটার
চিকিৎসা সফল হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লাটিলেটের মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে শুরু করে।
চিকিৎসার ফলাফল যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধের ফলাফলকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
সম্পূর্ণ রেসপন্স : টিউমার পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।
আংশিক রেসপন্স : টিউমার আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হওয়া।
স্থিতিশীল অবস্থা : ক্যানসার ছড়াচ্ছে না বা বড় হচ্ছে না, আবার ছোটও হচ্ছে না।
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন চুল পড়া, বমি ভাব বা প্রচণ্ড দুর্বলতা মানেই ওষুধ কাজ করছে। চিকিৎসকদের মতে এটি ভুল ধারণা। এগুলো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াও ওষুধ সমানভাবে কার্যকর হতে পারে। তাই শুধুমাত্র কষ্টদায়ক লক্ষণ দেখে ওষুধের সাফল্য বিচার করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
নিয়মিত ফলো-আপ: ক্যানসারের চিকিৎসায় চিকিৎসকের দেওয়া তারিখ অনুযায়ী চেকআপ করা জরুরি।
নিজে সিদ্ধান্ত না নেওয়া: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সচেতনতা: ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা জরুরি।
ক্যানসার এখন আর মৃত্যু নয়, বরং সঠিক চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি রোগ। বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চলাই সুস্থতার প্রধান চাবিকাঠি।