Image description

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অবৈধ সিসা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

শনিবার ( ৯ মে) বিকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আব্দুলাহপুর এলাকার বাসিন্দারা এ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আব্দুলাপুর বাসস্ট্যান্ডে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল (দক্ষিণ)-এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিসা কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেয়। পরে জব্দ করা মালামাল নিলামের মাধ্যমে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের কারণে এলাকায় বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন।

 
পাশাপাশি গবাদিপশুর মৃত্যুসহ কৃষিজমিরও ক্ষতি হচ্ছিল।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছিলাম না। পরে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীকে জানালে, প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে কারখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।

তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জমিদার বলেন, জনগণের ক্ষতি হয়-এমন কোনো কর্মকাণ্ড কেরানীগঞ্জে চলতে দেওয়া হবে না।

 
নিপুণ রায় চৌধুরীর নির্দেশনায় প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ সিসা কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তিনি একাধিক অবৈধ কারখানা বন্ধে ভূমিকা রেখেছেন।

 

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল (দক্ষিণ) এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে এসব সিসা গলানোর কারাখানা। এসব কারখানায় নষ্ট ও বাতিল ব্যাটারি এবং পুরনো লোহার বর্জ্য গলানো হতো। বর্জ্য গলানোর সময় এতে ক্ষতিকারক ধোঁয়ায় ক্ষতি হয় স্থানীয় মানুষের।

 
দূষিত হয় চারপাশের পরিবেশ, নষ্ট হয় ফসল ও জমি। পাশাপাশি এখানে কর্মরত কর্মচারীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। শুধু তাই-ই নয়, সিসা কারখানার আশপাশে জন্মানো ঘাস খেয়ে হুমকির মুখে পড়ছে গবাদি পশু। কারখানাটির বিরুদ্ধ দীর্ঘদিন যাবৎ অভিযোগ পেয়েছিলাম।

 

এর আগেও কয়েকবার কারখানাটিতে আভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। কিছুদিন যেতেই ফের আবার চালু করা হতো কারখানাটি। শুক্রবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে সিসা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে কারখানার মালামাল নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর পর যদি ফের কারখানাটি চালু হয় তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।