জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর জিন সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে জাতীয় জিন ব্যাংক। গবেষণার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল একটি ভবন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিতেও নির্মাণ করা হয়েছে ভিআইপি ডরমেটরিসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুউচ্চ কয়েকটি ভবন। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পরও জিন ব্যাংকে গবেষণা বা আবাসিক ভবনগুলোতে থাকার মতো মানুষ নেই। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিলাসবহুল ভবনগুলো। অনেকে সমালোচনা করে বলছেন, জিন ব্যাংকের নামে সেখানে আদতে ‘জিনের’ আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়েছে। বাইরে থেকে জাতীয় জিন ব্যাংকের স্থাপনা দেখলে মনে হবে, এটি হয়তো বিদেশের কোনো অত্যাধুনিক শহর বা অতি উন্নত কোনো গবেষণাপল্লি। কিন্তু মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে পা রাখলে যে কেউ বিভ্রান্ত হবেন। বিশাল সব দালানকোঠার ঝকঝকে আধুনিকতার আড়ালে সেখানে লুকিয়ে আছে নিস্তব্ধতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের করুণ চিত্র। এ যেন গবেষণার নামে কংক্রিটের জঙ্গল।
জাতীয় জিন ব্যাংক মূলত উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের জেনেটিক উপাদানগুলো দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে বিআরআরআই বা বিজেআরআইর মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ছোট পরিসরের জিন ব্যাংক থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে এত বড় পরিসরে এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এটিই প্রথম উদ্যোগ। এই জিন ব্যাংকটি একটি ‘সেন্ট্রাল হাব’ হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উন্নত প্রযুক্তিতে বড় আকারের নমুনা সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন বিশাল জিন ব্যাংকের প্রয়োজন না থাকলেও ভবিষ্যৎ চিন্তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জনবলের নিশ্চয়তা না থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে বিলাসবহুল সব আবাসিক ভবন। ফলে ভবনগুলো জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনবল চেয়ে আবেদন করার পর কয়েক বছর কেটে গেলেও অনুমোদন মেলেনি। এ কারণে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেকে সমালোচনা করে বলছেন, জিন ব্যাংকের নামে আদতে ‘জিনের’ আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১৮ সালে ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প হাতে নেয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় উদ্ভীদ-প্রাণীর জিন সংগ্রহের জন্য ভবন নির্মাণসহ বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)। প্রকল্পটি তিন বছরে শেষ করার কথা থাকলেও সাত বছরে বাস্তবায়ন করেছে এনআইবি। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে জিন ব্যাংক, পরিচালক বাংলো, ভিআইপি ডরমেটোরি, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আবাসিকসহ মোট সাতটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ল্যাব-কাম-অফিস ভবন। কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৪ তলা ও ১০ তলার দুটি ভবন। স্টাফদের আবাসনের জন্য রয়েছে বিশাল আকৃতির ২০ তলা ও ১০ তলার আরও দুটি ভবন। এ ছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ডরমেটরি এবং আলাদা একটি ডিরেক্টর বাংলোও নির্মাণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকার কাশিমপুর রোডে এনআইবিতে গিয়ে দেখা যায়, এনআইবির মূল ভবনের পেছনেই করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল জিন ব্যাংক ও ল্যাব ভবন। পাশেই বিলাসবহুল ভিআইপি ডরমেটোরি, পরিচালকের বাংলো, আবাসিক ভবন ও সাব-স্টেশন ভবন। সব কিছুই আছে, শুধু নেই এসব অবকাঠামো ব্যবহার এবং ভবনে বসবাসের মানুষ।
প্রকল্প এলাকার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ১২ তলা বিশিষ্ট জাতীয় জিন ব্যাংক ও ল্যাব ভবন। ভবনের সামনের দেয়ালে লেখা ‘ন্যাশনাল জিন ব্যাংক’। ভবনের সামনে ছোট ছোট ঝাউগাছ আর পামগাছের সাজানো বাগান। ল্যাব ভবনের পেছনের দৃশ্যটি আরও অবিশ্বাস্য। সেখানে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে আকাশছোঁয়া আবাসিক কমপ্লেক্স।
চোখ আটকে যায় ২০ তলা বিশিষ্ট বিশাল স্টাফ কোয়ার্টারে। কর্মচারীদের জন্য নির্মিত জনমানবহীন এই বিশাল ভবনের প্রতিটি তলার বারান্দা খাঁখাঁ করছে। কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ঝকঝকা ১৪ তলা ও ১০ তলার ভবনগুলোও বসবাসের জন্য প্রস্তুত হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেও মানুষের ছোঁয়া পায়নি এখনো। দেখে মনে হয়, শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের এই ইমারতগুলো কেবল নিস্তব্ধতাকে ধারণ করার জন্যই আকাশমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পুরো এলাকাটিতে চোখে পড়ে প্রশস্ত সব পাকা রাস্তা। এসব রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক গোলাকার ল্যাম্পপোস্ট। রয়েছে সুন্দর ঘাসযুক্ত মাঠ, আধুনিক সাব-স্টেশন ও ভিআইপি ডরমেটোরি, যেগুলোতে লেগে আছে আধুনিকতার ছাপ। কিন্তু নতুন স্থাপিত জাতীয় জিন ব্যাংকের প্রতিটি কোনায় যেন একই চিত্র—সব আছে, শুধু মানুষ নেই, নেই কোনো কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস কার্যত ফাঁকা পড়ে আছে। নিকট ভবিষ্যতেও আদৌ পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার শুরু হবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় দৃষ্টিনন্দন ও ব্যয়বহুল এসব স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে করা হবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কারণ নিয়মিত ব্যবহার না থাকলে লিফট, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও কাঠামোগত বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
তথ্য অনুযায়ী, এনআইবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৮৬ জন, যার মধ্যে কর্মকর্তা ৫৫ ও কর্মচারী ৩১ জন। সেখানে আবাসিক ভবনে ২৫ জনের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকিদের অনেকেই নিজ বাড়ি থেকে অফিস করেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, আশপাশে ফ্ল্যাটের ভাড়া কম হওয়ায় এনআইবির অনেকেই সরকারি কোয়ার্টারে থাকতে চান না। কারণ আশপাশে যে টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া যায়, কোয়ার্টারে উঠলে তার দ্বিগুণ টাকা কাটা যাবে। অথচ এসব যাচাই-বাছাই না করেই ১৮০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশাল এই প্রকল্প নেওয়া হয়।
জানা গেছে, জাতীয় জিন ব্যাংক পরিচালনার জন্য ডিপিপিতে ২৫৪ জন জনবলের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিন ধাপে ৫৮টি পদ সৃজনের সম্মতি দেয়, যার মধ্যে ৩১টি পদ জিন ব্যাংকের বিভিন্ন ডিভিশনের জন্য নির্ধারিত ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ৬ জুন অর্থ বিভাগ গুরুত্ব বিবেচনায় তা কমিয়ে দুই ধাপে ৪৪টি পদ অনুমোদন করে। প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল অনুমোদিত হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে গবেষণার বদলে অবকাঠামোই এখন প্রধান বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনআইবির তথ্য মতে, বছরে সংস্থাটির সাতটি বিভাগ মাত্র দেড় কোটি টাকা গবেষণায় বরাদ্দ পায়। বরাদ্দ বাড়াতে কোনো উদ্যোগ না থাকলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নামে কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ৫০০ কোটির বিশাল প্রকল্প নেওয়া হয়। যদিও প্রথমে জিন ব্যাংক করার জন্য ৫০ কোটি টাকার মধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, মূলত লুটপাট করতে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণকাজ ঢুকিয়ে ৫০০ কোটিতে রূপান্তর করা হয়। আর এর মাধ্যমে সবুজে ঘেরা এনআইবিকে বড় বড় ভবনে ঘিরে গবেষণার পরিবেশই নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এখানে এত আবাসিক ভবনের চাহিদা নেই। কারণ কোয়ার্টারে থাকার চেয়ে বাইরে ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতে কর্মকর্তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখানে জিন ব্যাংকের জন্য একটি ভবনই যথেষ্ট ছিল। মূল দরকার ছিল ফ্রিল্যান্স গবেষণার পরিবেশ তৈরি, যাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া তরুণ গবেষকরা নতুন নতুন গবেষণা করতে পারে। কিন্তু বড় বড় ভবন করে এখানের পরিবেশই নষ্ট করা হয়েছে। তাদের অনেকে কটাক্ষ করে বলেন, জিন ব্যাংকের নামে আসলে জিনের আবাস বানানো হয়েছে।
এনআইবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল ভবনে ল্যাবরেটরি কার্যক্রম এরই মধ্যে চালু হয়েছে এবং আংশিকভাবে অফিস কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্থানান্তর এখনো সম্পন্ন হয়নি, কিছু কার্যক্রম এখনো পুরোনো ব্যবস্থায় চলছে। আবাসিক ভবনগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবনগুলোর ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত জনবল নিয়োগের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবে পরিকল্পনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প দেশের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের বিশাল অবকাঠামো তৈরি হলেও দক্ষ জনবল ও গবেষণার অভাবে তা অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। কৃষি ও শিল্পে বিদেশনির্ভরতা কমাতে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনে স্বনির্ভর হতে এই প্রকল্পের সঠিক ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অপরিহার্য। অন্যথায় এটি কেবল একটি বড় অপচয়ে পরিণত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহম্মদ নাজমুল আহসান কালবেলাকে বলেন, বিজ্ঞান ও গবেষণায় বিনিয়োগের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণায় বিনিয়োগ করে আজ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বড় অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই গবেষণা ও উদ্ভাবনের চর্চা জোরদার না করে, তাহলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে। দেশ এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমাদের বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের উদ্ভাবন দরকার। অন্যথায় আমরা দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেটির ‘প্রোপার ইউটিলাইজেশন’ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বায়োটেক পার্ক, গবেষণা কনসোর্টিয়াম বা শিল্প-গবেষণা অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় এটি বড় ধরনের অপচয়ে পরিণত হবে। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে এই জাতীয় জিন ব্যাংকের মতো বিশাল অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে আমরা পাঁচ-দশ বছর পর এর সুফলটা পেতে পারি।
জানতে চাইলে এনআইবি মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অবকাঠামোগত কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভবন ও অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজি পার্ক গঠন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং গবেষণাগারভিত্তিক সহযোগিতামূলক ব্যবহার—এ ধরনের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে।
ড. ছগীর আহমেদ জানান, ভবনগুলোর একটি অংশে বর্তমানে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অবশিষ্ট আবাসিক ও অন্যান্য অবকাঠামো ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন এটমিক এনার্জি কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সমন্বিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। জনবল অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করে অবকাঠামোগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।