Image description

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মকালীন নাগরিকত্ব বা বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আইন বাতিলের পক্ষে নিজের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি বিতর্কিত পডকাস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।

 

পডকাস্টটিতে ভারত ও চীনকে ‘নরকের দেশ’ (হেল-হোল) হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীদের নিয়ে চরম বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।

 

মাইকেল স্যাভেজ তার ‘স্যাভেজ নেশন’ নামক পডকাস্টে অভিযোগ করেন, এশিয়া মহাদেশের বিশেষ করে ভারত ও চীনের নাগরিকরা গর্ভাবস্থায় নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাদের উদ্দেশ্য থাকে আইনের ফাঁক গলে নবজাতক জন্মদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।

 
 

 

স্যাভেজের দাবি, অভিবাসীরা নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তাদের পুরো পরিবারকে ভারত বা চীনের মতো নরককুণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। তিনি ভারতীয় ও চীনা পেশাজীবীদের ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার বলে অভিহিত করেন। তাদেরকে মাফিয়াদের চেয়েও বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার জন্যও তিনি এশিয়ানদের দায়ী করেছেন।

 

এই বর্ণবাদী পডকাস্টটি শেয়ার করার ঠিক এক দিন আগে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মকালীন নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান নেই।

 

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশে এই আইন বিদ্যমান রয়েছে।

 

বর্তমানে যুক্তকরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প বনাম বারবারা নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছে। এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো-অস্থায়ী ভিসা বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের বৈধতা।

 

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আদালত যদি এই আদেশের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা ও অখণ্ডতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুকে আরও উত্তপ্ত করতে ট্রাম্প এ ধরনের বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বিষয় প্রচার করছেন।

 

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন