Image description

পরিবহন মালিকপক্ষের চাপে নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

 

বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন খাতসহ নানা খাতে যে অরাজকতার আশঙ্কা বারবার করেছি, তা শুরু হয়েছে। পরিবহন খাতে অযৌক্তিক ভাড়াবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। ইসলামী আন্দোলন দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি জানাচ্ছে যে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যদি ভাড়া সমন্বয় করতেই হয়, তাহলে তা যাত্রীস্বার্থ বিবেচনায় করতে হবে। পরিবহনের যেসব শর্ত পরিপালন করার কথা তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

 

তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, বলছেন আতাউর রহমান।

 

 

তিনি বলেন, ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে মালিকপক্ষের চারজন রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা রয়েছে ছয়জন আর যাত্রীদের পক্ষে একজন। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের চরিত্র যারা জানেন, তারা সহজেই বুঝতে পারবে যে, এখানে মালিকপক্ষের লোক আদতে ১০ জন। আর যাত্রীদের পক্ষে মাত্র একজন। ভাড়া নির্ধারণেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

 

আতাউর রহমানের মতে, ভাড়াবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে বারোটি বিষয়কে বিবেচনা করা হয়েছে, সেগুলোর একটাও বাস মালিকপক্ষ প্রতিপালন করে না। প্রতিবছর ইঞ্জিন ওভারহোলিং করা হয় না, প্রতি পঁচিশ দিনে একবার ও তিন মাসে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, বাসগুলো গ্যারেজে রাখা হয় না এবং বাসগুলো দশ বছরের হিসাব করা হলেও অধিকাংশ বাসই বিশ বছরের অধিককাল চলাচল করে। নতুন বাসের দাম হিসাব করা হলেও অধিকাংশ বাসই পুরোনো ও লক্কড়ঝক্কড়।

 

বাসভাড়া বৃদ্ধির জন্য তাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো তখনই বিবেচনায় নেওয়া যাবে, যখন তারা সেই বিষয়গুলো পরিপালন করবে, বলছেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র।

 

সরকার যদি পরিবহন খাতের মালিকদের কথা মেনে কোটি কোটি জনতার স্বার্থ উপেক্ষা করে, তাহলে এর পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেন আতাউর রহমান।