Image description

অল্প বয়সে শিশু-কিশোরদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বলেছেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারে দ্রুতই অশ্লীল কন্টেন্টের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে তাদের। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যখন নির্বাচন করি, নেশার কথা অনেকে বলেছে। আমি বক্তব্যে বলতাম যে ভাল কথা, আমরা নেশা দূর করব, কিন্তু আপনারা যারা আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে রাখেন; পাখিরা সব নীড়ে ফিরে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা বাইরে থাকে। কী করে? আমি একদম গ্রামীণ ভাষায় বলতাম যে, আমরা যখন নির্বাচনে ভোট চাই, দেখি, সন্ধ্যার পরে ঝাড়তলায়, বিলের আইল, টংয়ের ওপরে বসে বসে মোবাইল দেখে, খারাপ খারাপ কথা শোনে, খারাপ খারাপ দৃশ্য দেখে, খারাপ খারাপ নেশা খায়। বাচ্চাদের ভালো হবে কীভাবে? আপনারাই তো খারাপ করেন— বাবা-মায়েরা। কথাটা তারা স্বীকার করে।

শিশু-কিশোরদের কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ১১ বছর বয়স হলে সন্তানের যখন একটু মোচ ওঠা শুরু করে, একদম খুশি হয়ে আপনারা ঢলঢলা হয়ে একটা মোবাইল কিনে দিয়ে দেন। মোবাইল দেখে দেখে ... তো বাচ্চাকে আপনি বাইন্ধা রাখবেন কতক্ষণ? তার মন তো বান্ধা যায় না। খারাপ হয়ে যায়। কাজেই কাউন্সেলিং ইজ দ্য বেস্ট থিং।

 

অনুষ্ঠানে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে মায়ের বুকের দুধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, একটি ভিটামিন বা একটি ফাইল ওষুধ খেয়ে জীবন চলে না। কিন্তু মায়ের দুধ এমন একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি, যা শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলস্ট্রাম) খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। বর্তমানে অনেক মা বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া উচিত। সবকিছু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি মানেই শুধু শরীর নয়, এটি মেধা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিরও শক্তি। পুষ্টি সপ্তাহকে শুধুমাত্র ৭ দিনের গণনা না ভেবে, পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।