Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পারমাণবিক চুক্তির দিকে এগোতে চায় দেশটি। মার্কিন হামলার পর দ্বিতীয় দফার আলোচনা কয়েকদিন আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক ইরানি কূটনীতিক রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তির দিকে এগোতে চায় ইরান, যা উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দশকের টানাপোড়েন কমানো ও নতুন সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশ আলোচনা পুনরায় শুরু করে।

 

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতির উপ-পরিচালক হামিদ ঘানবারি বলেন, একটি চুক্তি টেকসই করতে হলে এমন ক্ষেত্রও রাখতে হবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক লাভ পেতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, যৌথ জ্বালানি প্রকল্প, খনি খাতের বিনিয়োগ, এমনকি বেসামরিক বিমান কেনার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে। ২০১৫ সালের চুক্তি মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়নি।’

 
 

 

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়।

 

এখনকার আলোচনা আগের মতো বহুপাক্ষিক নয়; এটি সরাসরি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমিত, যেখানে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

এদিকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে আপসের জন্য প্রস্তুত। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘চুক্তি করতে চায়। তবে এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের।’

 

ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করতে পারে। তবে শূন্য সমৃদ্ধকরণ তারা মেনে নেবে না। এ অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে এবং এ অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

 

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরানের তেল রপ্তানি, বিশেষ করে চীনে সরবরাহ কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।