নিউজিল্যান্ডে ২০১৯ সালে দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার শাস্তি বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন।
এপির খবরে জানানো হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এই হত্যাকারী সম্প্রতি আদালতে দাবি করেছেন, বিচার চলাকালে ‘অমানবিক’ ও ‘নির্যাতনমূলকভাবে’ আটক রাখার কারণে তার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থা ছিল না। আর এ কারণে তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তবে এখন আগের দেওয়া সেই জবানবন্দি বাতিল করতে চান তিনি।
উল্লেখ্য, প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শাস্তি। অস্ট্রেলীয় নাগরিক ও সাবেক জিম প্রশিক্ষক ট্যারান্ট ভয়াবহ ওই গণহত্যার দায় স্বীকার করার পর ২০২০ সালের আগস্টে তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি শাস্তি বাতিল চেয়ে আদালতে আপিল করেছেন। আপিল শুনানিতে আদালতে উপস্থিতির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
কেবল আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও আদালতের কর্মকর্তাদেরই সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। হামলায় নিহত বা আহতদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ক্রাইস্টচার্চে এক ঘণ্টা পরে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানি দেখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানায়, নির্ধারিত সময়ের বাইরে আপিল করায় মামলাটি এগিয়ে নিতে ট্যারান্টকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। ওয়েলিংটনে কোর্ট অব আপিল যদি তার দণ্ড বহাল রাখে, তবে চলতি বছরের শেষের দিকে তার সাজা নিয়ে আলাদা শুনানি হতে পারে।
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ আধা-স্বয়ংক্রিয় বেশ কয়েকটি অস্ত্র নিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বন্দুক হামলা চালান ট্যারান্ট। হামলার আগে তিনি অনলাইনে একটি বার্তা প্রকাশ করেন এবং ১৭ মিনিট ধরে ওই হত্যাযজ্ঞ লাইভস্ট্রিম করেন। নির্মম ওই হত্যাযজ্ঞে নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও ছিলেন।
লিনউড মসজিদে ট্যারান্টের গুলিতে নিহত হুসেইনের বোন আয়া আল-উমারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সাজা ঘোষণার সময় আমি ভেবেছিলেন, এটাই শেষ। কিন্তু ছয় বছর পর এমনটা করা যায়, তা জানা ছিল না। আমি এর জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।’