ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ, প্রার্থী ও গাড়িবহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ১৫২ আসনে রাজ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোটদানের এই প্রবণতা গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটদানের হারকে ছাড়িয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে। সে বছর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রথম দফায় ১৫২ আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৬৭টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার ৪১৮। সহকারী বুথ রয়েছে ২ হাজার ৯৫৮টি। এদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয় মকপোল। ভোটগ্রহণ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৭টায়, শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। প্রতি বুথে গড়ে ৮১৩ জন করে ভোটার রয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে মোট ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। সবচেয়ে বেশি মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ মিলে প্রায় ৫ লাখ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন।
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ১৭১ জন। পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭৭ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
এদিকে তামিলনাড়ুতে বিকেলে পাঁচটা পর্যন্ত ৫ কোটি ৭৩ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। এটা রাজ্যের জন্য রেকর্ড উপস্থিতি। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো ভোটারদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় রাজ্যের ৭৫ হাজার ৬৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার ৪ হাজার ২৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।