Image description
পালটা বিক্ষোভ, আগুন-ভাঙচুর

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলা ও প্রতীকী কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গেল কয়েকদিনে খুলনা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে দলটির কার্যালয় খোলা, পতাকা উত্তোলন, স্লোগান ও ছবিতে ফুল দিতে দেখা যায়। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি স্থানে পালটা বিক্ষোভ, ভাঙচুর, আগুন ও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল ও জুলাই আন্দোলনের নেতারা। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পটুয়াখালী ও দশমিনা : দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় সোমবার সকালে উদ্বোধনের সাড়ে চার ঘণ্টা পর উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা পুনরায় ভাঙচুর করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের নলখোলা বন্দরে কার্যালয় উদ্বোধন করেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হাওলাদার ও দশমিনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহাগ প্যাদার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। তারা কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দোয়া-মোনাজাত করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়টি উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করে তালা লাগিয়ে দেয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে। তারা কি সত্যিই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে, তা আমার বোধগম্য নয়। থানা পুলিশ যদি বিষয়টি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, প্রয়োজন হলে আমরা সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

দিনাজপুর : শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী এসে স্লোগান দেন। এ নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন তারা। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারীসহ সাত নেতাকর্মী স্লোগান দিচ্ছেন। তাদেরই একজন মুঠোফোনে সেলফি তোলার ভঙ্গিতে ভিডিও ধারণ করছেন। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় কয়েকজন জুলাই আন্দোলনকারী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করেন। এ বিষয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ফয়সাল মোস্তাক বলেন, আমরা এ বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্র্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দুই হাজার শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তাদের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

খুলনা : সদর থানার যশোর লোয়ার রোডের শঙ্খ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি এম আরিফের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে ফুলের মালা দেন। এরপর কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওঠার গেটে তালা লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

চট্টগ্রাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন মহানগর যুবলীগের কর্মীরা। নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকার লালদীঘির পাড়ে থাকা ম্যুরালটি ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার দোস্ত বিল্ডিংয়ে থাকা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) : পীরগঞ্জে রোববার বিকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পৌর শহরের লিচুতলায় দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম রব্বানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন মন্ডল, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি রিগানসহ ২০ থেকে ২৫ নেতাকর্মী। পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ মাজাহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কিন্তু পরে কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় : নির্বাচনের এক দিন পর শুক্রবার সকালে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে তালা খুলে দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। একই সঙ্গে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন এই বিএনপি নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এমনকি কেন্দ্রীয়ভাবেও নেই। এ কাজটি যিনি করেছেন, তাকেই এর দায় বহন করতে হবে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রে জানাব। আবু দাউদ প্রধান বলেন, এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় যাতে উত্তেজনা বিরাজ না করে, সেজন্য অফিসটি খুলে দিয়েছি।