Image description

পরাজয়ের আশঙ্কায় কেউ কেউ বাঁকা পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তারা একই গর্তে আর পা দিবেন না। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামি। গণভোটে হ্যাঁ বিজয় হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, আর পরাজিত হলে সমগ্র বাংলাদেশ পরাজিত হবে। 

রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধুপখোলা ও আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে পৃথক পৃথক নির্বাচনী সভায় ১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বক্তব্য রাখেন। যাত্রাবাড়ীর সভায় জামায়াত মনোনীত ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ধুপখোলায় ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল হান্নান ও ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারি, এবং ঢাকা-৭ আসনে জনসভায় আলহাজ এনায়েত উল্লাহর পক্ষে তিনি ভোট চান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি জানানোর জন্য জাতীয়ভাবে দুইটি সফটওয়্যার (অ্যাপ) চালু করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগকারী যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি চাঁদাবাজরাও বুঝতে পারবে না, কিন্তু সবকিছু রেকর্ড হবে এবং অভিযোগ যথাযথ স্থানে পৌঁছে যাবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া তরুণ ভোটারদের ভোটকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে আগুন জ্বলবে বলে জনসভায় উল্লেখ করেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, ‘তাদের ভোটে কেউ হাত দেবেন না। হাত দিলে আগুন জ্বলবে। 

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাস অন্তর জনগণের মুখোমুখি করা হবে। জনগণ সরাসরি জানতে চাইবে কেন তাদের সমস্যা সমাধান হয়নি এবং জনপ্রতিনিধিদের সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের বিজয় নয়, জনগণের বিজয় চায়। ক্ষমতায় গেলে যদি কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা, খোলা ড্রেন বা নদী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে বছরে চারবার ওই নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। 

কওমি মাদ্রাসাগুলোর অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, যুগ যুগ ধরে সব সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রতি অবহেলা করেছে। অথচ তারা দেশের নাগরিক এবং ট্যাক্স দেয়। কওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বসে তাদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা লাগে তা তা করবো। 

যাত্রাবাড়ীর নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা-৫ এর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪-এর এমপি প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, জামায়াতের মহানগর নায়েবে আমীর  আব্দুস সবুর ফকির, ও এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এম শাহরিয়ারসহ ১১ দলের নেতৃবৃন্দ।

দুপুর ২টায় ধুপখোলায় ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল হান্নান ও ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারির পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমীর। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কিছু উৎপাত দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গা থেকে। বাংলাদেশের মানুষ যখন মুক্তির সন্ধানে, তখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেকে হস্তক্ষেপ করছেন।

আমরা তাদের অনুরোধ জানাবো, আর আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না। সকল সভ্য দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে কিন্তু কারও চোখ রাঙানি মেনে নেবো না। কাউকে প্রভু মানবো না। আমরা বুকে জড়িয়ে ধরতে রাজি আছি কিন্তু শর্ত একটা, এখানে অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান থাকতে হবে। ১২ তারিখে কোনো দুর্বৃত্ত যুব সমাজের ভোটে হাত দিতে চাইলে, সে হাত গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এরা যৌবন পেয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত ভোটের অধিকার পায়নি। তারা ১২ তারিখের জন্য অপেক্ষা করছে। 

সন্ধ্যায় ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জামায়াত আমীর বলেন, আমাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদেরকে সুযোগ দিন। চাঁদা আমরা নেবো না, চাঁদা নিতে দেবো না, দুর্নীতি করতে দেবো না। আমরা আমাদের বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আমি বিশ্বাস করি মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তারা একই গর্তে আর পা দিবে না। 

তিনি দাবি করেন, জুলাই কারও একার নয়। জুলাইকে কারও হাতে তুলে দেবো না। একক কোনো মাস্টার মাইন্ড এ যুদ্ধে ছিলেন না। আর জুলুমের শাসন আমরা চাই না, জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে কিন্তু শেষ হয়নি। পুরান ঢাকা আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া পায়নি। আমরা পুরান ঢাকাকে উন্নত করবো। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো, আর পেছনের দিকে যেতে চাই না। 

তিনি বলেন, এই মিটফোর্ড এলাকায় নিজের দলের একজন লোককে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাথর দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। যেই দলের কর্মীরা চাঁদার নেশায় নিজের ভাই ও সহকর্মীকে ছেড়ে কথা বলে না। সে দল সম্পর্কে আমাদের অনেক চিন্তা- ভাবনার প্রয়োজন আছে। দীর্ঘদীন আপনারাও নির্যাতিত ছিলেন, আমরাও নির্যাতিত ছিলাম। আমাদের ১১ জন সিনিয়র দায়িত্বশীল নেতাকে ঠান্ডা মাথায় বিচারের নামে খুন করা হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়েছিল। এমন কোনো জুলুম নাই যা আমাদের ওপর করা হয়নি। 

পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে দেশপ্রেমিক চৌকস সেনা অফিসারদের  হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল। সাজানো নাটকে কতো মায়ের কোল খালি হয়েছে, আমি তাদের মায়ের চোখে পানি দেখিনি রক্ত দেখেছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো মানুষকে আশ্রয় দেয়ার মানে ছিল, জীবনের ঝুঁকি নেয়া, সম্পদ ও ইজ্জতের ঝুঁকি নেয়া। আমাদেরকে আশ্রয় দেয়ার জন্য অনেককে জেল দেয়া হয়েছিল। আল্লাহ হচ্ছেন মজলুমের প্রকৃত বন্ধু। গণভোটে হ্যাঁ মানে হচ্ছে আপনি আজাদীর পক্ষে, আর না মানে হচ্ছে গোলামির পক্ষে। তাই গণভোটে হ্যাঁ দিতে হবে। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আগে নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুন। ঋণখেলাপিদের  নিয়ে সংসদ নির্বাচন করবেন আর বলবেন আপনারা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বেন। এ সমস্ত ঘুম পাড়ানো গান আর চলবে না।  মানুষের টাকা লুট করে বিদেশে বেগমপাড়া গড়ার ইচ্ছা নেই। আমরা আপনাদের আমানতের পাহারাদার হতে চাই। অতীতে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা দেশের মালিক হয়েছিলেন। আমরা ধর্মে-বর্ণে কোনো বিভক্তি চাই না। যারা পেছন নিয়ে কামড়া-কামড়ি করবে বুঝতে হবে সামনে আগানোর তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।

এলডিপি’র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।