Image description
ঢাকা ১২

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক  এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের আড়ত কাওরান বাজার, ট্রাকস্ট্যান্ড, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে এই আসনের লড়াইয়ে রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থী ‘তিন সাইফুল’।

তারা হলেন- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব (ফুটবল), বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (কোদাল) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন (দাঁড়িপাল্লা)। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে তিন প্রার্থীরই কমবেশি সমর্থক রয়েছেন। 

ঢাকা-১২ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জনগণ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. সাইফুল আলম খান মিলন ও বিএনপি সমর্থিত সাইফুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। 

সাইফুল আলম নীরব আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। দলীয়ভাবে তাকে মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। সমর্থন দেয়া হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। তিনি বিএনপি’র জোটসঙ্গী। দল অনুরোধ করলেও নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি সাইফুল আলম নীরব। বাধ্য হয়ে দল তাকে বহিষ্কার করেছে। সাইফুল হক এই আসনে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন অনেক পরে। এ কারণে এখনো তিনি প্রচারের সবকিছু গুছিয়ে উঠতে পারেননি। বিএনপি ঘরানার এই দুই প্রার্থী মাঠে থাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন সুযোগ নিতে চাইছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন সাইফুলের মধ্যে ভোটের মূল লড়াই হবে।

গতকাল বড় মগবাজার, নিউ ইস্কাটন, তেজগাঁও, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, শেরেবাংলা নগর, রাজাবাজার ও ইন্দিরা রোড এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তারা কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা পর্যালোচনা করছেন। ভোটাররা জানিয়েছেন, প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন। ভোটাররা বলছেন, নীরব ও সাইফুল হকের ভোট ভাগাভাগির ফলে সুবিধা পাবেন জামায়াত প্রার্থী। 

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকা-১২ আসনে নীরবই এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে।

হাতিরঝিল এলাকার মাহিনুদ্দিন বাবর বলেন, এখানে কনটেস্ট হবে স্বতন্ত্র ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে আমি নিজেও ঠিকমতো চিনি না। কিন্তু নীরব স্বতন্ত্র হলেও এলাকার মানুষ নীরবকেই বেশি চিনে।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কেউ ভোট দেবে নীরবকে, কেউ দেবে সাইফুল হককে। আবার তাদের দু’জনের ভোট সমান হলে সেক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থী এখানে বেশি ভোট পেয়ে যাবে। নীরবের প্রচারণা এখন কম দেখা যাচ্ছে। সাইফুল হকের প্রচারই বেশি চোখে পড়ছে।

বাংলামোটর এলাকায় মহিউদ্দিন নামের একজন বলেন, জামায়াত জোটের জনপ্রিয়তা কমে গেছে ইসলামিক দলগুলোর বিভক্তির কারণে। জামায়াতকে যারা ইসলামী দল হিসেবে ভোট দেবে, তারা আগেই ভাববে ইসলামী দলের আরও প্রার্থী আছে। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আকিদাগত পার্থক্য আছে। আবার, সাইফুল আলম নীরবের আলাদা জনপ্রিয়তা আছে। সে এই আসনে না থাকলে সমীকরণ আলাদা হতো। 

বিএনপি জোটের প্রার্থী সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা-১২ আসনে নাগরিক সেবা বিপর্যস্ত, এটাকে উন্নতি করতে হবে। এখানে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও সরকারকে সম্পৃক্ত করা এবং নাগরিকদেরও একটা বড় ভূমিকা রাখতে হবে। হাতিরঝিলে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও নিরাপদ করে গড়ে তুলবো। এখানে শিক্ষা ও হাসপাতাল জরুরি, এগুলোও আমি করবো। এসব কিছু নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, এটাকে মোকাবিলা করে ঢাকা-১২কে একটি বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে আমি গড়ে তুলতে চাই।

জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে সাইফুল আলম খান মিলন মানবজমিনকে বলেন, ১০ দলীয় জোটের পক্ষে ইতিমধ্যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বর্তমান রাজনীতির পরিবর্তন চায় মানুষ। জনগণের এক নম্বর চয়েজ জামায়াত। জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।

সাইফুল আলম নীরব মানবজমিনকে বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান। এই এলাকায় জন্মগ্রহণ করছি। এলাকার সন্তান হিসেবে দলমত নির্বশেষে সকলের ভোট চাই। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই এলাকায় আমার প্রথম কাজ হবে এলাকাকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং মুক্ত করা। এই এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-১২কে একটি মডেল আসন হিসেবে তৈরি করবো। জোটের বাইরে গিয়ে যেহেতু নির্বাচন করছেন, আপনি বিএনপি’র সমর্থকদের থেকে ভোট পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নীরব বলেন, আমি শহীদ জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। আশা করছি- এলাকার জনগণ আমাকে ফুটবল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।   

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড- অর্থাৎ, বড় মগবাজার, তেজগাঁও, ইস্কাটন, শেরেবাংলা নগর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। এই আসনে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। ঢাকা-১২ আসনে বৈধ প্রার্থী মোট ১১ জন। তিন সাইফুল ছাড়াও আরও রয়েছেন আম-জনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোমিনুল আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছা. সালমা আক্তার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মুনতাসির মাহমুদ, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাঈম হাসান।