Image description

প্রায় এক মাস আগে শিক্ষা বছর শুরু হলেও এখনো সব বই হাতে পায়নি মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পড়ছে ছেদ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। সব বই পেতে চলতি মাস পেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের নতুন বই ছাপা শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কিন্তু মাধ্যমিকের তিনটি শ্রেণিতে পুনরায় দরপত্র করার কারণে পিছিয়ে যায় এসব শ্রেণিতে বই ছাপার কাজ। ফলে জানুয়ারির শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণিতে বই দেওয়া শুরু হলেও মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিতে এখনো সব বই পায়নি অনেক স্কুলের শিক্ষার্থী।

তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। এর মধ্যে ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার বই মাধ্যমিকের, বাকিগুলো প্রাথমিক স্তরের।

জানা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় অর্ধকোটি বই এখনো উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানো বাকি। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য শিক্ষা বছর শুরুর আগেই গত ডিসেম্বরে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির সব বই পায়নি ছাত্রছাত্রীরা। রাজধানীর মতিঝিলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই পৌঁছেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর শেরেবাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও জানান, এসব শ্রেণিতে সব বই না পাওয়ার কথা। এ শিক্ষক আরও বলেন, বর্তমানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলমান থাকায় বই সংকটে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। তা ছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বইগুলো ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। এনসিটিবি সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রাথমিকের সব বই বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রছাত্রীরা হাতে পেয়েছে। মাধ্যমিকে সারা দেশে অল্প কিছু বই, প্রায় ২০-২২ লাখ- যা মোট বইয়ের প্রায় ১ শতাংশ এখনো পৌঁছানো বাকি রয়েছে। খুব শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পেয়ে যাবে। এজন্য ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। কারণ মূল বইগুলো ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছে তারা। এ ছাড়া গত মাসেই সব বইয়ের পিডিএফ কপি তাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তাই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না।