জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আসন সমঝোতা শেষদিনেও চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের জন্য রেখে দেওয়া ৪৭ আসনের ব্যাপারে দলগুলো একমত হতে পারেনি। এর আগে ১০ দলের মধ্যে ২৫৩টি আসনে সমঝোতা হলেও ইসলামী আন্দোলনের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল ৪৭টি। তবে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।
১০ দলীয় ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়ক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত যে সমঝোতা হয়েছে সে অনুযায়ী জামায়াত ২১৫টি আসন সমঝোতার মাধ্যমে পেয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে সমঝোতা হয়নি যেগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আর সুযোগ না থাকায় কীভাবে সমঝোতা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমর্থন দিয়ে একত্রে কাজ করতে পারেন। আমরা মনে করি, একসঙ্গে পথচলায় এতদূর এসেছি। বাকিটুকুও সম্ভব হবে।
১০ দলের মধ্যে আসন সমঝোতার অংশ হিসাবে এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে ৩০টি আসন। মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২২টি এবং খেলাফত মজলিসকে ১২টি আসন দেওয়া হয়েছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন নেতা জানান, তারা সমঝোতায় পেয়েছেন ২৩টি এবং কয়েকটিতে সমঝোতা হয়নি। সেসব আসন এখনো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানান ওই নেতা।
একইভাবে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের যুগান্তরকে বলেন, আমরা সমঝোতায় পেয়েছি আগের ১০টির সঙ্গে আরও ৩টা মিলিয়ে মোট ১৩টি আসন। কয়েকটিতে সমঝোতা হয়নি বলে তিনি জানান। এছাড়াও এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২ এবং বিডিপিকে ২টি আসন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২৫৩ আসনের সমঝোতায় খেলাফত আন্দোলন এবং জাগপাকে কোনো আসন দেওয়া হয়নি। নতুন সমঝোতায় খেলাফত আন্দোলনকে ১টি আসন দেওয়া হয়েছে বলে যুগান্তরকে জানান দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী। তবে তাদের কোনো আসন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।
জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির চরমোনাই পীরের ভাই সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত জোট। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে প্রথমদিকের ৮ দলের জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই ৫ দফার আন্দোলনে ছিল। পরে এই ঐক্য নির্বাচনি সমঝোতায় রূপ নেয়। ৮ দলের সঙ্গে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যোগ দেওয়ায় দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১-তে। কিন্তু আসন সমঝোতার চূড়ান্ত আলোচনায় গিয়ে ইসলামী আন্দোলন জামায়াতসহ বাকি দলগুলোর সঙ্গে একমত হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জোট থেকে বেরিয়ে যায়। তারপরও ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত রেখে ১০ দল ১৫ জানুয়ারি ২৫৩টি আসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বাকি ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা হলেও দলটি তা মানতে রাজি হয়নি। পরেরদিন আলাদা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তারা ১১ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।