জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রেজিস্ট্রার দফতরের অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইম। ধূপখোলা মাঠের বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরেরগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি।
জর্জিস আনোয়ার জানান, জকসুর প্রথম অধিবেশনেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কাছে ধূপখোলা মাঠের বৈধ কাগজপত্র না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুমতি চান। তখন উপাচার্য তাকে সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া চিঠি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিগুলো প্রশাসনিক দফতর থেকে সংগ্রহ করে নিতে বলেন।
তবে প্রশাসনিক দফতরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের অনুরোধ জানালেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে রেজিস্ট্রারের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তাকে ক্রীড়া কমিটির মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়। এ সময় তিনি জানান, উপাচার্য নিজেই তাকে কাগজগুলো সংগ্রহ করতে বলেছেন। এরপর রেজিস্ট্রার দফতর থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে ভিসির কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জর্জিস আনোয়ার নাইম বলেন, ‘আমি একজন খেলোয়াড় মানুষ, কষ্ট করতে জানি। রোজার মধ্যেও আমরা দুজন মিলে ১৩ তলা থেকে ক্যারামের স্ট্যান্ড নামিয়েছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে এভাবে বাধা দেওয়া হলে কাজের গতি ও মানসিকতা—দুটোই নষ্ট হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মাঠসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। কিন্তু সহযোগিতা করার বদলে নানা নিয়ম-কানুন দেখিয়ে কাজকে আরও জটিল করে তোলা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টা তেমন কিছু না। প্রত্যেক কাজে ন্যূনতম একটা প্রসেসিং টাইম লাগে। আশা করি খুব দ্রুতই কাগজপত্র পাওয়া যাবে। তাছাড়া, মাঠ উদ্ধার হোক, সেটা তো আমরাও চাই।’