Image description
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে বরাদ্দ ৭১ কোটি টাকা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারাদেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ও গণভোট আয়োজনে সারাদেশে ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৯৯টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। এসব ভোটকেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। আজাদ মজুমদার বলেন, দেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব বলেন, বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

আজাদ মজুমদার জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর জেলায় মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা বসবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, সারাদেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎসংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারে গণভোটও হবে একই দিন।

প্রেসসচিব বলেন, যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, সেসব কেন্দ্রে বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটের দিন জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে প্রশাসন।

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রেসসচিব বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে, নাকি একাধিক অংশে পুনর্গঠন করা হবে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শফিকুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে আরো জোরদার অভিযান চালানো হবে এবং আশপাশ এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হবে।